

হুমায়ুন কবীর রিন্টু, নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে শিশু জান্নাতুল মাওয়া (৫) কে ধর্ষণের পর খুনের ঘটনায় ধর্ষক রবিউল ইসলাম রবি (৩৫) কে আটক করে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে দত্তপাড়া এলাকা থেকে ধর্ষক রবিউলকে আটক করে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। রবিউল রামচন্দ্রপুর গ্রামের আতিয়ারের ছেলে। তাকে আটকের পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাকে দড়ি দিয়ে বেধে ফেলে। এরপর পুলিশে সোপর্দ করে। এসময় উত্তেজিত জনতা তাকে মারপিট করতে উদ্যত হয়। পুলিশ তাকে নেয়ার আগ মুহুর্তে কয়েকজন তাকে কিলঘুষি মারে। পুলিশ অনেক কষ্টে জনতার রোষানল হতে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এরপর তাকে আদালতে উপস্থাপন করলে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত রবিউল শিকদার সোমবার বিকেলে প্রতিবেশি চাচা মফিজুরের শিশু মেয়ে জান্নাতুল মাওয়াকে বাড়ির পাশে একা পেয়ে তাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় তার প্রচন্ড রক্তক্ষরণ হয়। এরপর তাকে শ্বাসরোধে খুন করে নিজ ঘরে কাথা দিয়ে মুড়ে রেখে দেয়। খুনের শিকার জান্নাতুল মাওয়া ধর্ষক রবিউলের চাচাতো বোন।
সোমবার বিকেলে মফিজুর মেয়ে জান্নাতুলকে বাড়ির পাশের দোকান হতে চানাচুর কিনে দেয়। দীর্ঘ সময় সে বাড়ি না ফেরায় বাড়ির লোকজন তাকে খুঁজতে বের হয়। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে তারা সন্দেহবশত রবিউলের ঘরে যায়। সেখানে গিয়ে তারা রবিউলের ঘরের মেঝেতে কাথা দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় শিশু জান্নাতুলকে পায়। তাৎক্ষনিক তাকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়।
নড়াইল জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আসিফ আকবর তাদের জানান, বেশ কিছু সময় আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। এ সময় তিনি শিশুটির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহৃ পান। শিশু জান্নাতুলকে খোঁজ করার সময় তারা রবিউলকে খুঁজে কোথাও না পেয়ে অনেকটা নিশ্চিত হয় যে, এ জঘন্য কাজটি সে করেছে। ঘটনার পর রবিউল পালিয়ে যায়। এ ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পরপরই সদর থানার ওসি অজয় কুন্ডু তাকে গ্রেফতারে সচেষ্ট হন। কয়েকটি চৌকশ পুলিশ টিম গোটা এলাকায় তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন। যাতে রবিউল পালিয়ে যেতে না পারে।
নড়াইল সদর থানা পুলিশের ওসি অজয় কুন্ডু বলেন, সোমবার বিকেলে শিশুটিকে নির্জন ঘরে ডেকে নিয়ে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে পেশায় রাজমিস্ত্রী রবিউল। রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় অবুঝ শিশুটির। পরে জান্নাতুলের বাবা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
এদিকে, এই পৈশাচিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়ে এলাকাবাসী। অপরাধীর দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে নড়াইল-মাগুরা ও ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। খবর পেয়ে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফজুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "আমরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে অপরাধীকে ধরতে সক্ষম হয়েছি। ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও পৈশাচিক। আমরা বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। অপরাধীর দ্রুততম সময়ে শাস্তি নিশ্চিতে পুলিশের পক্ষ থেকে যা যা আইনগত পদক্ষেপ প্রয়োজন, তার সবই করা হবে।"
