

দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বড়খাল বহুমুখী স্কুল এন্ড কলেজ ভেন্যুতে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র বিতরণে গুরুতর অব্যবস্থাপনার অভিযোগে কেন্দ্র সচিবের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
দায়িত্ব পালনে অসতর্কতা ও তদারকির ঘাটতির কারণে বরইউড়ি আলিম মাদ্রাসার ১৯জন, দ্বীনেরটুক আলিম মাদ্রাসার ৩০জন এবং কলাউড়া ফাজিল মাদ্রাসার ২৮জন নিয়মিত পরীক্ষার্থীকে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৩ জুলাই পরীক্ষার দিন নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পৌঁছালেও তা ব্যবহার না করে ভিন্ন ক্যাটাগরির প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। দায়িত্বপ্রাপ্তদের এমন ভুল নজরে না আসায় পুরো পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ পায়। এতে পরীক্ষার্থীদের ফলাফল ও উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, একটি পাবলিক পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কেন্দ্র সচিবের উচিত ছিল প্রশ্নপত্র বিতরণের আগে প্রতিটি প্যাকেট ও পরীক্ষার্থীর ধরন যথাযথভাবে যাচাই করা। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কারণেই এত বড় প্রশাসনিক ত্রুটি ঘটেছে। তাদের দাবি, এটি শুধুমাত্র একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল নয়; বরং দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলার প্রতিফলন।
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা বলেন, শিক্ষার্থীরা কোনো ভুল করেনি। কেন্দ্র পরিচালনায় দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের অব্যবস্থাপনার কারণে তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। প্রশাসনের ভুলের দায় কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের বহন করা উচিত নয়।
এ বিষয়ে কেন্দ্র সচিব মাওঃ কালিম উল্লাহ ভুলের বিষয়টি স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রশ্ন, শুধুমাত্র দুঃখ প্রকাশে এত বড় ক্ষতির দায় শেষ হয়ে যায় কি না।
এদিকে পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা আবু হেনা কামাল জানিয়েছেন, ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণ এবং দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে কেন্দ্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ৭৭ জন পরীক্ষার্থীর ফলাফল ও শিক্ষাজীবন যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
