

দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। খাসিয়ামারা, চেলা, কালিউরি ও চিলাই নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। আগাম বন্যার আশঙ্কায় উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন উপজেলার শত শত মাছচাষী।
পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়া ঠেকাতে চাষীরা দিন-রাত এক করে ঘেরের চারপাশে জাল ও বাঁশের বেড়া দিচ্ছেন। অনেকে পাড় উঁচু করছেন, কেউ আবার বড় মাছ আগেভাগে ধরে বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন, যাতে বড় ধরনের লোকসান এড়ানো যায়। চাষীদের আশঙ্কা, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে যেকোনো মুহূর্তে পুকুর তলিয়ে কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে।
সুরমা ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের মাছচাষী হাবিবুল কবির শুভ বলেন, 'গত বন্যায় সব মাছ ভেসে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলাম। এবার আর ঝুঁকি নিতে চাই না। তাই জাল দিয়ে পুরো পুকুর ঘেরাও করছি।' আরেক খামারি দিন ইসলাম জানান, পানি যেভাবে বাড়ছে তাতে রাত জেগে পুকুর পাহারা দিতে হচ্ছে; পানি বেশি উঠলে নেট দিয়েও শেষরক্ষা হবে কি না, তা নিয়ে তিনি শঙ্কিত।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরেফিন মাহমুদ বলেন, চাষীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে পুকুর পাড়ে শক্ত নেট বা বাঁশের বানা দেওয়ার এবং বিক্রির উপযোগী মাছ বাজারে বিক্রি করে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোঃ লুৎফর রহমান জানান, এখনো বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, তবে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সব আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে, খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম, নৌকার মাঝিদের তালিকা ও শুকনো খাবার মজুদ রাখা হয়েছে এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে মেডিক্যাল টিম।
