ঢাকা
logo
প্রকাশিত : July 6, 2026

পৌরসভার বয়স ২৫, নেই নিজের ঠিকানা!

পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি: একটি পৌরসভা মানে একটি জনপদের প্রশাসনিক পরিচয়, নাগরিক সেবার কেন্দ্রবিন্দু এবং উন্নয়নের প্রতীক। অথচ রাজশাহীর পুঠিয়া পৌরসভার বাস্তবতা যেন তার সম্পূর্ণ উল্টো। প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পরও নেই নিজস্ব ভবন। একটি ভাড়া করা সংকীর্ণ ভবনেই চলছে সব প্রশাসনিক কার্যক্রম। নাগরিক সেবা দিতে গিয়ে প্রতিদিনই হোঁচট খাচ্ছে পৌর প্রশাসন। আর এই দীর্ঘ ব্যর্থতার কেন্দ্রে উঠে আসছে একের পর এক প্রশ্ন, ২০০৭ সালে ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ৮৪ লাখ টাকা কোথায় গেল? কেন এক চতুর্থাংশ শতাব্দী পরও নিজের ঠিকানা গড়ে তুলতে পারেনি একটি পৌরসভা?

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালে পুঠিয়া পৌরসভা গঠিত হলেও সীমানা নির্ধারণসংক্রান্ত মামলার কারণে দীর্ঘদিন নির্বাচন সম্ভব হয়নি। প্রশাসকের হাতেই চলেছে পৌরসভার দায়িত্ব। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ২০১৬ সালে প্রথম এবং ২০২০ সালে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও স্থায়ী পৌর ভবনের স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়।

সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে ২০০৭ সালের বরাদ্দকে ঘিরে। সরকারি অর্থে পৌর ভবন নির্মাণের জন্য ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু সেই অর্থে ভবনের একটি ইটও দাঁড়ায়নি। পৌরসভার একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর দাবি, বিগত দুই মেয়াদে ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ পাওয়া অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, অর্থের একটি বড় অংশ অনিয়ম ও তছরুপের মাধ্যমে অন্যত্র চলে গেছে। বর্তমানে পৌরসভার তহবিলে অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ১৬ লাখ টাকা।

অভিযোগের সত্যতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত হয়নি। ফলে অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়নি এবং অভিযুক্তদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। কিন্তু হিসাবের খাতায় বরাদ্দের অঙ্ক আর বাস্তবের শূন্যতা নাগরিকদের মনে প্রশ্ন আরও গভীর করছে।

বর্তমানে পুঠিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাশ অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হলেও বিপুল ঋণের চাপ নিয়ে চলছে পৌর প্রশাসন। অর্থসংকটের কারণে উন্নয়ন কার্যক্রমও কার্যত স্থবির।

পৌর ভবন না থাকায় নাগরিক সেবাও ব্যাহত হচ্ছে। জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং কর, বিভিন্ন সনদ ও প্রশাসনিক সেবা নিতে এসে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। প্রয়োজনীয় দপ্তর, নথি সংরক্ষণাগার কিংবা নাগরিকদের বসার উপযুক্ত স্থান, কোনোটিই নেই বর্তমান ভাড়া ভবনে।

পৌরসভার ৮ নম্বর কাঁঠালবাড়িয়া ওয়ার্ডের বাসিন্দা রহিদুল ইসলাম বলেন, “২৫ বছরেও পৌর ভবন হয়নি—এটা শুধু ব্যর্থতা নয়, আমাদের সঙ্গে এক ধরনের অবহেলা। ভবনের টাকা নিয়ে নানা অভিযোগ শুনছি। যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতেই হবে।”

স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী পৌর ভবনের জন্য সরকারি খাস জমি, অধিগ্রহণকৃত জমি অথবা পৌরসভার নিজস্ব ক্রয়কৃত জমি ব্যবহার করা যায়। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, পুঠিয়া সদরে একাধিক সরকারি খাস জমি রয়েছে। সময়মতো উদ্যোগ নিলে বহু আগেই স্থায়ী ভবন নির্মাণ করা যেত।

তবে বর্তমান প্রশাসন নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাশ বলেন, “আদর্শ পৌর ভবনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ জমি পৌর সদরের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে না। এজন্য পুঠিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের জায়গায় ভবন নির্মাণের একটি প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললেই দ্রুত কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।”

কিন্তু নাগরিকদের প্রশ্ন এখনও একই, পঁচিশ বছরের অপেক্ষার দায় নেবে কে? ৮৪ লাখ টাকার হিসাব কোথায়? আর কতদিন ভাড়া ভবনেই চলবে একটি পৌরসভার প্রশাসন?

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram