

হুমায়ুন কবীর রিন্টু, নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইল সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানকে মারধর ও তার অফিসের কম্পিউটার ভাঙচুর এবং তাকে হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শুধু তাই নয়, তাকে হুমকি দেয়ার পর বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা জিসান মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে ওই সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংবাদ সম্মেলন করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে নানাভাবে মৎস্য কর্মকর্তার দুর্নীতি অনিয়মের তথ্য উপস্থাপনের চেষ্টা করেন।
অপরদিকে এ ঘটনায় সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হান স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা জিসানের বিরুদ্ধে রোববার (২৮ জুন) রাতে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, জিসানুর রহমান (৩০) নড়াইলের যদুনাথপুর গ্রামের টিপু সুলতানের ছেলে। তার সাথে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে চার থেকে পাঁচজনকে।
মৎস্য অফিসের কর্মচারীরা জানান, ঘটনার সময় জিসানুর নিজেকে ছাত্রদলের সাবেক নেতা পরিচয় দিতে থাকেন। এদিকে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জিসানুর বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবকদের সদর উপজেলার বাশগ্রাম ইউনিয়নের সদস্য সচিব।
মামলার এজাহার সূত্রে আরও জানা যায়, নড়াইল সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে জিসানুর রহমান প্রায়ই বিভিন্ন গোপনীয় তথ্য চাইতেন। তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে জিসানুর অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গালমন্দ করতেন। ঘটনার দিন গত রোববার বিকেলে জিসানুরসহ অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজন মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে জেলার সুবিধাভোগী সদস্যদের প্রদর্শনী তালিকা দাবি করেন তিনি।
মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হান জানান, এর আগেও আপনাকে (জিসানুর) একাধিকবার তথ্য দেয়া হয়েছে। এই কথা শোনার পর জিসানুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে কিল-ঘুষি মেরে নাক, মুখ, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় অফিসের কর্মচারীরা মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া অফিসের টেবিলে থাকা প্রায় ৬৮ হাজার টাকা মূল্যের সরকারি ডেস্কটপ কম্পিউটার ও মনিটর আছড়ে ভেঙে ফেলেন স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা জিসানুর। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করেন। সেই সাথে জিসানুর মৎস্য কর্মকর্তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে জিসানুর রহমান পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার অফিসে উপকারভোগীদের নামের তালিকা চেয়েছিলাম। তথ্য না পেয়ে ফিরে আসার সময় অফিসের কর্মচারী আমাকে উদ্দেশ্য করে বলে ওঠেন, আমি নাকি সবকিছু মোবাইল ফোনে ভিডিও করে নিয়ে যাচ্ছি। এক পর্যায়ে মৎস্য অফিসের কর্মচারীরা মেঝেতে ফেলে জিসানুরকে এলোপাতাড়ি মারপিট করেন বলে দাবি করেন তিনি। তার কথা, ‘আমি কেন কর্মকর্তাকে মারতে যাব’।
এদিকে সচেতন মহলের দাবি অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ এবং উপস্থিত লোকজনের দেয়া সাক্ষ্য পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধের আইনগত ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।
এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, মৎস্য কর্মকর্তার এজাহারের ভিত্তিতে রোববার রাত ৯ টার দিকে মামলাটি রজু করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
