

কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি: ঢাকার কেরানীগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত অসহায় ও নিম্নআয়ের বহু পরিবার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হলেও প্রবাসী ও তুলনামূলক সচ্ছল পরিবারের সদস্যরা উপকারভোগীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘৈর নগর এলাকায় সাথী বর্মন নামে এক ফ্রান্স প্রবাসীর স্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন। একই এলাকার রাখী রানীর স্বামী কুয়েতে এবং ছেলে সিঙ্গাপুরে কর্মরত থাকলেও তিনি সুবিধাভোগীর তালিকায় রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নাসরিন বেগম ও নাহিদা আক্তারের স্বামীরাও প্রবাসে অবস্থান করছেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু প্রবাসী পরিবারের সদস্যরাই নন, যাদের নিজস্ব বহুতল ভবন, ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা বাড়ি ও দোকান ভাড়া থেকে নিয়মিত আয় রয়েছে, এমন ব্যক্তিরাও ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন। অথচ একই এলাকার অনেক নিম্নআয়ের পরিবার, দিনমজুর ও অসহায় মানুষ আবেদন করেও এ সুবিধা পাননি।
সুবিধাবঞ্চিত জবেদা বেগম বলেন, “স্বামী মারা গেছেন। ছোট সন্তানদের নিয়ে কষ্টে সংসার চালাই। আশা করেছিলাম ফ্যামিলি কার্ড পাব, কিন্তু পাইনি। অথচ এলাকার অনেক সচ্ছল পরিবার কার্ড পেয়েছে।”
চিনু দে বলেন, “কারখানায় কাজ করে সংসার চালাই। ফ্যামিলি কার্ড পেলে কিছুটা উপকার হতো। কিন্তু আমার নাম তালিকায় আসেনি। যাদের রাজনৈতিক প্রভাব আছে কিংবা নেতাদের আত্মীয়-স্বজন, তারাই কার্ড পেয়েছে।”
জানা গেছে, ঢাকা-৩ আসনের আওতাধীন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘৈর-ঋষিপাড়া, বাঘৈর নগর, আলিয়াপাড়া, কদমপুর ও শাস্তা গ্রামে ৫০৯টি হতদরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, “কর্মসূচিটির উদ্দেশ্য ছিল প্রকৃত দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে সহায়তা দেওয়া। কিন্তু বাস্তবে উচ্চবিত্ত, প্রবাসী ও সচ্ছল পরিবারের সদস্যরাও কার্ড পেয়েছেন। সমাজসেবা অফিসের অব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় পর্যায়ের স্বজনপ্রীতির কারণে প্রকৃত দরিদ্ররা বঞ্চিত হয়েছেন।”
এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শিবলীজ্জামান বলেন, “এটি একটি পাইলট প্রকল্প। কোনো প্রকৃত উপকারভোগী বাদ পড়ে থাকলে তাঁকে তালিকাভুক্ত করা হবে। আবার কারও বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উমর ফারুক বলেন, “ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগী তালিকা পুনরায় যাচাই করে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কোনো অনিয়ম বা অসঙ্গতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
