

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দা উপজেলার বাঁকাপুর মৌজায় ব্যক্তিমালিকানাধীন কৃষি জমি দখল করে খাল খননের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১২ জন কৃষক তাদের আবাদি জমি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবি করেছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েও তারা কোনো প্রতিকার পাননি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ইজিপিপি কর্মসূচির আওতায় বাঁকাপুর মৌজার দফাদারের মোড় মেইন সড়ক থেকে উথরাইল বিল পর্যন্ত একটি খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পটির ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৪ লাখ ৬২ হাজার ৯৭৭ টাকা। প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে রয়েছেন ভারশোঁ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জিন্নাতুন নেছা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, খাল খননের আগে একটি বেসরকারি সার্ভে পরিচালনা করে জমির ওপর লাল নিশান টাঙিয়ে চিহ্নিত করা হয়। এতে কৃষকেরা দেখতে পান, প্রস্তাবিত খালের নকশা তাদের ব্যক্তিমালিকানাধীন তিন ফসলি জমির ওপর দিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরে তারা বিষয়টি নিয়ে নওগাঁ জেলা প্রশাসক, মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করেন।
ভুক্তভোগী কৃষক আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, তার প্রায় এক বিঘা আবাদি জমি খাল খননের আওতায় চলে গেছে। তিনি বলেন, ‘এই জমিই ছিল আমার প্রধান অবলম্বন। প্রতিবছর এখানে তিনটি ফসল উৎপাদন করতাম। জমি হারিয়ে এখন আমি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছি।’
তিনি আরও বলেন, অভিযোগ দাখিল করলেও তা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। বরং আপত্তি উপেক্ষা করেই খাল খননের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
আরেক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক প্রীতি রানী জানান, তার ৫৩ শতক আবাদি জমি খালের জন্য দখল করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বারবার বাধা দিলেও কাজ বন্ধ হয়নি। শুধু জমি কেটে খালই করা হয়নি, আমার সম্পত্তির দুই পাশেও খালের পাড় নির্মাণ করে সেখানে গাছ লাগানো হয়েছে।’
স্থানীয়দের দাবি, ঘোনা, বাঁকাপুর ও ভারশো গ্রামের মকলেছুর রহমান, হোসেন আলী, আনোয়ার হোসেনসহ অন্তত ১২ জন কৃষক এ প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তারা বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ জানালেও নিজেদের জমি রক্ষা করতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে প্রকল্পের সভাপতি জিন্নাতুন নেছা বলেন, ‘জমি মালিকদের সঙ্গে কথা বলে নিষ্পত্তির পর খাল খনন করা হয়েছে। এত পরে কেন কথা উঠছে বলতে পারছি না।’
কৃষকদের অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, সার্ভের পর প্রাথমিক নকশার তৈরির সময় কৃষকের একটি অভিযোগ পেয়েছি। সেটি নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এরপর কেউ আর কিছুই জানাননি। পরবর্তীতে খাল খনন ও পাড়ে গাছ লাগানো হয়েছে।
