

মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: জাতীয় শিক্ষা পদক-২০২৬ উপলক্ষে দিনাজপুর জেলা পর্যায়ের মূল্যায়নে বিরামপুর উপজেলার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছাঃ রুনা লায়লা শ্রেষ্ঠ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।বিরামপুরের তিনজনের জেলা সেরা অর্জন গত ২ জুন ২০২৬ তারিখে স্বাক্ষরিত সিদ্ধান্তে তাকে এ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।
রংপুর সদর উপজেলার শালবন মিস্ত্রিপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোছাঃ রুনা লায়লা ১ ফেব্রুয়ারি ২০১১ সালে ডিমলা নিলফামারী জেলায় প্রথম উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন পরবর্তীতে ৪র্থ স্টেশন হিসেবে ২০২৪ সালের ২৪ মার্চে দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, ঝরে পড়া রোধ এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।
তার নেতৃত্বে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে গৃহীত উদ্যোগগুলো শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। আন্তরিকতা, কর্মদক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার কারণে তিনি শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে একজন দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
এদিকে জাতীয় শিক্ষা পদক-২০২৬ এর জেলা পর্যায়ের মূল্যায়নে বিরামপুর উপজেলার আরও দুই শিক্ষক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। কাব শিক্ষক (পুরুষ) ক্যাটাগরিতে বেনজির হক রিপন জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া সহকারী শিক্ষক ক্যাটাগরিতে হাকিম মোল্লা জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
একই উপজেলার তিনজন শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্বের জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের খবরে বিরামপুরের শিক্ষা অঙ্গনে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন ও সাফল্যের একটি উজ্জ্বল স্বীকৃতি।
বিরামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের পক্ষ থেকে সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ এক যৌথ বিবৃতিতে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী বিরামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছাঃ রুনা লায়লা, কেটরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেনজির হক রিপন ও শিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হাকিম মোল্লাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
তারা বলেন, এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বিরামপুরের সমগ্র শিক্ষা পরিবারের গর্ব। তাদের নিষ্ঠা, মেধা ও কর্মপ্রচেষ্টা ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের পথ তৈরি করবে। আমরা প্রত্যাশা করি, তারা বিভাগীয় পর্যায়েও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে বিরামপুর ও দিনাজপুর জেলার সুনাম আরও বৃদ্ধি করবেন।
শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করেন, এই তিনজনের অর্জন তাদের দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও শিক্ষার মানোন্নয়নে অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি।
