ঢাকা
১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ৯:১৩
logo
প্রকাশিত : মে ১৮, ২০২৬

তিতাসে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ১২ হাজর পশু, পরিচর্যায় ব্যস্ত খামারি ও প্রান্তিক কৃষকরা

তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল আজহায় কুমিল্লার তিতাসে কোরবানির জন্য ১২ হাজার ১৬৫টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। চাহিদার তুলনায় প্রায় ১ হাজার পশু বেশি রয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে পশুর পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন ছোট-বড় প্রায় ১ হাজার ৫৪০টি খামারি ও গ্রামীণ প্রান্তিক কৃষকরা। দেশীয় জাতের পশুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় খামারিরা এবার আরও বেশি যত্ন নিয়ে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে পশু লালন-পালন করেছেন। তবে অধিকাংশ খামারিরা দেশী গরুর পাশাপাশি অল্প সময়ে অধিক লাভ ও মাংসের চাহিদা পূরণে শাহীওয়াল, রেড সিন্ধি ও ফিজিয়ান গরু বেশি পালন করছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবার তিতাস উপজেলায় ছোট-বড় প্রায় ১৫৪০টি খামারে কোরবানির জন্য ১২ হাজর ১৬৫টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১০ হাজার ৩৭টি গরু এবং ২ হাজার ১২৮টি ছাগল ও ভেড়া। তিতাস উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ১১২৯০টি। ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রায় ৮৭৫টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে ধারণা করছেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।

সরেজমিনে উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের রঘুনাথপুর মরিম এগ্রো ফার্মে গিয়ে দেখা যায়, ৬০টি গরুকে গোসল করানো হচ্ছে, আবার কোথাও দেওয়া হচ্ছে খাবার, নারান্দিয়া ইউনিয়নের খলিলাবাদ আবু মুসার খামারে গিয়ে দেখা যায় ক্রেতাদের সঙ্গে চলছে দরদাম। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে খামারিদের ব্যস্ততা।

মরিয়ম এগ্রো ফার্মের মালিক মনির হোসেন কোম্পানি জানান, চার বছর আগে মাত্র ২০টি গরু নিয়ে খামার শুরু করলেও এখন আল্লাহ চাহেত ৬০টিতে উন্নত হয়েছে। তার ভাষ্য মতে, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে করা হচ্ছে পশু পালন। কাঁচা ঘাস, ভুসি ও পুষ্টিকর খাবার। প্রতিদিন ৬০টি গরুর খাবার খরচ হয় প্রায় ৪০ হাজার টাকা। তবে এবার পশু খাদ্যের দাম বেড়েছে অনেক। উৎপাদন খরচও আগের তুলনায় বেশি। তারপরও ভালো দামের আশা করছেন তিনি। ইতিমধ্যে ১২টি গরু ২৬ লাখ টাকা বলে গেছেন বেপারিরা। ৩০ লাখ হলে ছেড়ে দিমু।

খামারের শ্রমিকরা জানান, প্রতিদিন নিয়মিত পশুর খাবার, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। পশুগুলো সুস্থ ও আকর্ষণীয় রাখতে সতর্ক রয়েছেন তারা।

শুধু বড় খামার নয়, উপজেলার মাঝারি, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিরাও এখন পার করছেন ব্যস্ত সময়। তবে পশুখাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা ব্যয় বেশি বলেও জানান অনেকেই।

মাঝারি খামারি আবু মুসা বলেন, আমার ১৪টি বলদ গরু ৪৪ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মঙ্গলবার এসে বেপারী নিয়ে যাবে। আলহামদুলিল্লাহ ভালো দাম পেয়েছি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ জানিয়েছেন, কোরবানির জন্য তিতাস উপজেলায় প্রায় ১২১৬৫টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। চাহিদার চাইতে ৮৭৫টি পশু বেশি আছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগ নিয়মিত কাজ করছে মাঠ পর্যায়ে। অবৈধভাবে ভারতীয় গরু প্রবেশ বন্ধ হলে স্থানীয় খামারিরা ন্যায্য দাম পাবেন বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

এদিকে কোরবানির পশু বিক্রিকে কেন্দ্র করে উপজেলার হাটগুলোতেও চলছে প্রস্তুতি। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনও নিচ্ছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram