

মোঃ মোকাররম হোসাইন, কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে সামাজিক বনায়নের আওতায় বছরের পর বছর ধরে রোপণ করা গাছ এখন নির্বিচারে কেটে উজাড় করছে দুর্বৃত্তরা। জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের মোসলেমগঞ্জ থেকে বৈরাগীহাট সড়কে রাতের আঁধারে কেটে ফেলা হয়েছে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টি গাছ। অথচ এত বড় গাছ নিধনের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘবদ্ধ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে সাবাড় করছে। একের পর এক গাছ উধাও হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতে জনমনে বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—“তাহলে কি দুর্বৃত্তদের কাছেই জিম্মি হয়ে পড়েছে সামাজিক বনায়ন প্রকল্প?”
সামাজিক বনায়নের গাছ দেখভালের দায়িত্বে থাকা মান্দাই গ্রামের ফেরদৌস রহমান জানান, সড়কের পাশে তিলে তিলে বড় করা গাছগুলো একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে কেটে ফেলছে। এ ঘটনায় সবুজ হোসেন ময়েন ও হোসেন আলীর নাম উল্লেখ করে একাধিকবার কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বন বিভাগ বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
মান্দাই গ্রামের হেলাল উদ্দিন বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও সবুজায়নের উদ্দেশ্যে লাগানো এসব গাছ এখন মাদকসেবী ও লোভী চক্রের টার্গেটে পরিণত হয়েছে। প্রথমে দিনের বেলায় গাছের ডালপালা ও মাথা কেটে ফেলা হয়, পরে কোন এক গভীর রাতে পুরো গাছ কেটে সরিয়ে নেওয়া হয়। সকালে গিয়ে দেখা যায়—পড়ে আছে শুধু গাছের গুঁড়ি আর ধ্বংসের চিহ্ন।
সচেতন মহলের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক এতগুলো গাছ কাটা হলেও কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? তাদের দাবি, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও দ্রুত পদক্ষেপ থাকলে এমন ভয়াবহ গাছ নিধনের ঘটনা ঘটতেই পারত না।
পরিবেশবাদী সংগঠন সবুজ আন্দোলনের চেয়ারম্যান বাপ্পি সরদার বলেন, সামাজিক বনায়নের গাছ শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অথচ কিছু অসাধু ব্যক্তি ও তাদের মদদদাতাদের কারণে সরকারের কোটি টাকার সম্পদ প্রকাশ্যে ধ্বংস হচ্ছে।
এ বিষয়ে কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম আরা জানান, সামাজিক বনায়নের গাছ চুরি ও অবৈধভাবে কাটার ঘটনা প্রতিরোধে একটি সমন্বিত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে সামাজিক বন বিভাগের প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং গ্রাম পুলিশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কমিটি প্রতি মাসে নিয়মিত সভা করবে এবং গাছ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে। পাশাপাশি বিষয়গুলো আইনশৃঙ্খলা সভায় উপস্থাপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন সড়কে সামাজিক বনায়নের অবশিষ্ট গাছ রক্ষায় আরও শক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।

