

তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের মানিককান্দি গ্রামে আলোচিত আব্দুল লতিফ ভূইয়া (৪৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার রাতে সাইফুল মেম্বার বাদী হয়ে তিতাস থানায় মামলাটি করেন। এ ঘটনায় মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রাজিব (২০) নামে এক যুবককে আটক করে মারধরের পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।
নিহত আব্দুল লতিফ ভূইয়া তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের মানিককান্দি গ্রামের মৃত ধনু ভূইয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভিটিকান্দি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লা গ্রুপ ও সাবেক মেম্বার সাইফুল ইসলাম গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতাকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর একটি মৎস্য প্রজেক্টে মাছ ধরা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ভিটিকান্দি ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম মোল্লা (৩০) প্রকাশ্যে কুপিয়ে নিহত হন। ওই হত্যা মামলার আসামিদের মধ্যে ছিলেন আব্দুল লতিফ ভূইয়া। সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরার মাত্র ছয় দিনের মাথায় তিনি হত্যার শিকার হন।
নিহত লতিফ ভূইয়ার বড় বোন শিউলি আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “আমার ভাই জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফেরার ছয় দিনের মাথায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার রাতে সে চকের বাড়ি মানিককান্দি এলাকায় চা খেয়ে এশার নামাজ পড়ে সাইফুল মেম্বারের বাড়ির দিকে যাচ্ছিল। তিন রাস্তার মোড়ে একটি গ্যারেজের সামনে সাইফুল মেম্বার, মুকিত মেম্বার ও শাহজালাল বসা ছিল। তাদের সামনে থেকে আমার ভাইকে ধরে নিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এসময় তারা আমার ভাইকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাদেরও ধাওয়া দেয়। আমি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।”
তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল হক বলেন, “লতিফ হত্যার ঘটনায় ২৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত রাজিব নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
উল্লেখ্য, গত ১১ মে রাতে মানিককান্দি গ্রামের তিন রাস্তার মোড়ে বশির মিয়ার চায়ের দোকানের সামনে প্রতিপক্ষের হামলায় আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া নিহত হন।

