

মাসুদ রানা, খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: উত্তরের জেলা দিনাজপুর–এর আকাশে এখন যেন এক ধরনের মিষ্টি অপেক্ষা। আর মাত্র এক সপ্তাহ—তারপরই বাজারে নামবে স্বাদে ও রসে অনন্য এই মৌসুমি ফল; লিচু।
টকটকে লাল রং, ভেতরে রসাল মিষ্টি স্বাদ—এই দুই গুণেই দিনাজপুরের লিচু সারা দেশে আলাদা কদর কুড়িয়েছে। তার ভেতর আবার বেদানা লিচু; নাম শুনলেই জিভে জল চলে আসে। মৌসুম এলেই ছোট–বড় সবার অপেক্ষা—কবে আসবে সেই কাঙ্ক্ষিত স্বাদ।
আর মাত্র কয়েকদিন পরেই চাষিরা লিচু তুলতে শুরু করবেন। এখন বাগানে বাগানে সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে লালচে গোলাপি আর হালকা সবুজ রঙের কচি লিচু। ফলন এবার কিছুটা কম হলেও, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা আর আশা নিয়ে চাষিদের মুখে আছে তৃপ্তির হাসি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে খানসামা, বীরগঞ্জ, বিরল, নবাবগঞ্জ ও সদরের লিচুর চাষ তুলনামূলক বেশি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ফল চাষে কৃষকদের আগ্রহও বাড়ছে।
তবে প্রকৃতি এবছর ছিল কিছুটা রুক্ষ। তাপমাত্রা বেশি ছিল; ঝড়-বাতাস আর শিলাবৃষ্টিতে অনেক গাছে গুটি ঝরে গেছে। কিন্তু কৃষি অফিসের আগাম পরামর্শে চাষিরা গাছের গোড়ায় নিয়মিত পানি দিয়েছেন, গাছে গাছে স্প্রে করেছেন পানি। ফলে সব প্রতিকূলতার মাঝেও এখন পর্যন্ত লিচু মোটামুটি ভালো অবস্থায় আছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে, আগামী সপ্তাহেই শুরু হবে বাজারজাত।
চাষিরা বলছেন, শুরু থেকেই এবছর মুকুল তুলনামূলক কম ছিল। প্রচণ্ড তাপদাহে অনেক গুটি ঝরে গেছে; ঝড় ও শিলাবৃষ্টিও ক্ষতি করেছে। তবুও যে লিচু রয়েছে, তার মান ভালো। তাঁদের প্রত্যাশা—গতবারের তুলনায় এবছর ভালো দাম পাওয়া যাবে। পুরো মৌসুমজুড়েই কৃষি অফিস নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে পাশে আছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দিনাজপুরের সহকারী উপ-পরিচালক (শস্য) মো. আনিছুজ্জামান বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যেই মাদ্রাজি ও বোম্বাই—এই আগাম জাতের লিচু বাজারে আসবে। এরপর পর্যায়ক্রমে আসবে বেদানা, চায়না থ্রি ও কাঁঠালি। তাপপ্রবাহের কারণে কিছু ক্ষতি হলেও, গাছ রক্ষায় মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এখন বাজারে যে লিচু দেখা যাচ্ছে, সেগুলো কোনোভাবেই পরিপক্ব নয়। এসব লিচু খাওয়া ঠিক হবে না। সত্যিকারের মিষ্টি ও সুস্বাদু লিচু বাজারে আসতে আরও প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগবে। তাই অপরিপক্ব ফল খাওয়ার বিষয়ে সাধারণ মানুষের সচেতন হওয়া জরুরি।
সব মিলিয়ে বলা যায়—আর একটু ধৈর্য। এক সপ্তাহ পরেই দিনাজপুরের আকাশ-বাতাসে ছড়িয়ে পড়বে লিচুর মিষ্টি ঘ্রাণ; আর বাজার ভরে উঠবে লাল রসালো সুখে।

