

মো. নজরুল ইসলাম, অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: ড্রেজিংয়ের মাটিতে বদলে যাচ্ছে হাওড়ের চিত্র। বিআইডব্লিওটিএ কর্তৃক নদী খননের মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে কিশোরগঞ্জের তিন হাওর উপজেলা অষ্টগ্রাম-ইটনা-মিঠামইনের নিচু ভূমি। এসব নিচু ভূমি ভরাট করার ফলে তা এখন কৃষক ও গবাদি পশুর নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি জায়গার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে বেশ কয়েকগুণ।
হাওড় অঞ্চলের নদ-নদীর নাব্যতা উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের আওতায় ড্রেজিংকৃত মাটি ব্যবহার করে বিভিন্ন নিচু ডোবা ও জলাবদ্ধ এলাকা ভরাটের মাধ্যমে ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলায় উল্লেখযোগ্য ভূমির উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। এতে কৃষক ও হাওড়বাসীর জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তনের চিত্র ফুটে উঠছে।
“বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন মিঠামইন উপজেলার ঘোড়াউতরা, বৌলাই, শ্রীগাং নদীর অংশবিশেষ এবং ইটনা উপজেলার ধনু নদী, নামাকুড়া নদী ও অষ্টগ্রাম উপজেলার ধলেশ্বরী নদীর অংশবিশেষের নাব্যতা উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার” প্রকল্পের আওতায় নামাকুড়া, বৌলাই, শ্রীগাং ও ধলেশ্বরী নদীর ড্রেজিংকৃত মাটি দিয়ে উল্লেখিত তিন উপজেলার বিভিন্ন নিচু ও জলাবদ্ধ স্থান ভরাট করা হয়েছে।
হাওড় অঞ্চল স্বাভাবিকভাবেই নিচু হওয়ায় বছরের বড় একটি সময়, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে কৃষিজমি, বসতভিটা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। এ প্রেক্ষাপটে ড্রেজিংয়ের মাটি দিয়ে নিচু ভূমি উঁচু করায় স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
ভরাটকৃত জমিগুলোতে এখন সারা বছর সবজি উৎপাদন, খাদ্য শষ্য সংরক্ষণ এবং গবাদিপশু লালন-পালনের নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আগে বর্ষাকালে কৃষকরা উৎপাদিত ফসল প্রক্রিয়াজাত করণ ও সংরক্ষণ নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়লেও বর্তমানে তারা উঁচু ও নিরাপদ স্থানে ধান কেটে এনে মাড়াই ও সংরক্ষণ করতে পারছেন। এতে ফসলের অপচয় কমছে এবং আর্থিক ক্ষতিও হ্রাস পাচ্ছে।
এছাড়া গবাদি পশু পালনেও এই ভূমি উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্ষা মৌসুমে পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণে আগে গবাদি পশুর নিরাপদ আশ্রয় ও চারণভূমির সংকট দেখা দিত। বর্তমানে ভরাটকৃত উঁচু জমিগুলো গবাদি পশুর আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা পশুসম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হচ্ছে।
ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চলতি মৌসুমে প্রবল বৃষ্টিপাতে কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা দ্রুত ফসল কেটে এনে নিরাপদ স্থানে প্রক্রিয়াজাত করতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং করা মাটি দিয়ে উঁচু করা স্থানগুলো ধানের খলা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এ বিষয়ে অষ্টগ্রামের সাধারণ জনগণের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নদী খননের ফলে সারা বছর নদীতে পানি থাকবে, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশীয় মাছের চাহিদা পুরণ হওয়ার পাশাপাশি জেলেদের বেকারত্বও দুর হবে। খননের মাটি দিয়ে তৈরি উঁচু স্থানগুলো গবাদি পশুর আশ্রয়কেন্দ্র ও ধান শুকানোর কাজে ব্যবহার করা যাবে এবং হাওরে সারা বছর সব্জি উৎপাদনের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
অষ্টগ্রামের বাসিন্দা সিয়াম শাহরিয়ার জানান, পাহাড়ি ঢলে ধলেশ্বরী নদীতে ভরাটের হার বেশি হলেও উক্ত নদী পর্যাপ্ত খনন করা হয়নি। ইতোমধ্যে প্রকল্পের বরাদ্দ ও প্রকল্প মেয়াদ কমিয়ে আনা হয়েছে। তিনি হাওর ও কৃষকদের বাঁচাতে পর্যাপ্ত নদী খননের জন্য পূর্বের বরাদ্দ ঠিক রেখে প্রকল্প মেয়াদ বাড়ানোর আহবান জানান।
এ প্রসঙ্গে বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী জাবের মজুমদার জানান, প্রকল্পটির কাজ জুন ২০২৬ সালে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ধলেশ্বরী নদীর ভরাটের হার ইতোমধ্যে চোখে পড়ছে। বাস্ততার আলোকে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

