

হুমায়ুন কবীর রিন্টু, নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইল জেলা পরিষদের একটি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন না করে পুরো টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে প্রকল্পের সভাপতির বিরুদ্ধে। লোহাগড়া উপজেলার শুলটিয়া গ্রামের পশ্চিপাড়া ঈদগাহের সংস্কারের কাজ সম্পন্ন না করায় এলাকাবাসী জেলা পরিষদের প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।
জানা গেছে, চলতি অর্থ বছরে নড়াইল জেলা পরিষদ থেকে লোহাগড়া উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের শুলটিয়া পশ্চিমপাড়া ঈদগাহ সংস্কার কাজে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করার জন্য শুলটিয়া গ্রামের সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আহাদকে সভাপতি করে কমিটি জমা দেয়া হয়। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আহাদ মেম্বর জেলা পরিষদ থেকে প্রথম কিস্তির টাকা উত্তোলন করেন। সেই টাকা হতে সামান্য কিছু খরচ করে যৎসামান্য কাজ করেন। এরপর প্রকল্পে বরাদ্দকৃত টাকার সম্পূর্ণ কাজ না করে অফিসকে ম্যানেজ করে পুরো টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়ে গ্রামবাসী জেলা পরিষদে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঈদগাহের উত্তর পাশে ইটের গাথুনি দিয়ে আশিংক কাজ করা হয়েছে। মাটি ভরাটসহ অন্যান্য কাজ বাকী রয়েছে। গ্রামবাসী এ ব্যাপারে আহাদ মেম্বরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অফিস খরচ-ভ্যাট এবং নেতাদের ম্যানেজ করে যে টাকা ছিল সেই টাকার কাজ করা হয়েছে। আর কোন টাকা নেই। সে কারণে আর কোন কাজ করা হবেনা বলে সাফ জানিয়ে দেন।
এ ঘটনায় অভিযোগকারী গ্রামের বর্তমান মেম্বর মোস্তাক শেখ, স্বপন মোল্যা, নবীর হোসেন বলেন, ঈদগাহের সংস্কার বাবদ বরাদ্দকৃত ৩ লাখ টাকা হতে মাত্র ৬০/৭০ হাজার টাকার কাজ হয়েছে। বাকী টাকার কাজ না করে পুরো টাকা উত্তোলন করে পিআইসি কমিটির সভাপতি শুলটিয়া চরপাড়ার আহাদ মেম্বর আত্মসাৎ করেছেন। এ ব্যাপারে নড়াইল জেলা পরিষদে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সাবেক মেম্বর আহাদ বলেন, বরাদ্দকৃত টাকা থেকে ১ লাখ টাকা খরচ করে ঈদগাহের উত্তর পাশে ইটের গাথুনি দেয়া হয়েছে। বাকী টাকা দিয়ে ঈদগাহে মাটি ভরাট করা হবে।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করার জন্য ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাঁরা তদন্ত প্রতিবেদন দিলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

