ঢাকা
২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ৯:৫০
logo
প্রকাশিত : এপ্রিল ২৬, ২০২৬

হাওরে ধান কাটার ধুম: শ্রমিক ও তেল সংকটে বিপাকে কৃষক

মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বিভিন্ন হাওরে ধান কাটার ধুম পড়েছে। চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের হাসিতে এখন দুশ্চিন্তার কালো মেঘ। আগাম বন্যার সতর্কতা, কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কার মুখে পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে ত্রিমুখী সংকটে পড়েছেন হাওরপাড়ের মানুষ। তীব্র শ্রমিক সংকট, জ্বালানি তেলের অভাব এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সোনালি ফসল শেষ পর্যন্ত গোলায় উঠবে কি না, তা নিয়ে বাড়ছে উৎকণ্ঠা।

এদিকে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড গত ২৪ এপ্রিল এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আগামী ২৮ এপ্রিল থেকে জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কায় হাওরের ৮০ শতাংশ পাকা ধান দ্রুত কেটে ফেলার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ হওয়া ধানের প্রায় ৭০ শতাংশই এখনো পুরোপুরি পাকেনি। ফলে আধাপাকা ধান কাটার নির্দেশ কৃষকদের শঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

​সরেজমিনে বিভিন্ন হাওরে গিয়ে দেখা যায়, বিরূপ পরিস্থিতিতে নিরুপায় হয়ে হাঁটু কোথাও কোথাও বুক সমান পানিতে নেমে ধান কাটছেন শ্রমিকরা। জলাবদ্ধতার কারণে অধিকাংশ জমিতে কম্বাইন হারভেস্টার বা ধান কাটার মেশিন নামানো সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয় কৃষকরা বলেছেন, 'জমির ধান এখনো কাঁচা, তার ওপর কালবৈশাখী আর শিলাবৃষ্টির ভয়। কৃষি অফিস থেকে ধান কাটার কথা বলা হলেও বাজারে তেলের সংকটে হারভেস্টার চালানো যাচ্ছে না। আবার চড়া মজুরি দিয়েও মিলছে না শ্রমিক।'

​সংকটের কেন্দ্রে জ্বালানি ও শ্রমিক স্বল্পতা ​আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারের জন্য যে পরিমাণ জ্বালানি তেল প্রয়োজন, স্থানীয় বাজারে তার তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, এই মৌসুমে ব্যাপক চাহিদার বিপরীতে শ্রমিকের অভাব প্রকট। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় বালুমহালগুলোতে কাজের চাপ থাকায় হাওরে কৃষি শ্রমিকের আকাল দেখা দিয়েছে।

​উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আশ্রাফুল আলম খাঁন বলেন, 'পাহাড়ি সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এখানে ঢলের ঝুঁকি বেশি। আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি যাতে অন্তত ৮০ শতাংশ পাকা ধান দ্রুত কেটে ফেলা হয়, যেন আসন্ন বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের বড় কোনো ক্ষতি না হয়।'

​প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে ফলানো এই ফসল শেষ পর্যন্ত কৃষকের গোলায় উঠবে কি না, তা এখন নির্ভর করছে দ্রুত ধান কাটার গতি ও আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর। দোয়ারাবাজারের সব ক'টি হাওরের কৃষকরা এখন কেবলই আকাশের দিকে তাকিয়ে দিন গুনছেন।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram