

দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার সীমান্তে সোনালি চেলা নদীর ভাঙন রোধ এবং ইজারা নীতিমালা লঙ্ঘন করে পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। বালু খেকো সিন্ডিকেটের অত্যাচারে ভিটেমাটি হারানোর শঙ্কায় শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের শারপিন পাড়া গ্রামে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিপন্ন জনপদ, দিশেহারা মানুষ মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত কয়েক দশকে সোনালি চেলার করাল গ্রাসে নদী তীরবর্তী জনপদ আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইতোমধ্যে শারপিন পাড়া গ্রামের অন্তত ২৮টি বসতবাড়ি এবং ৫ শ' বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে তীব্র নদী ভাঙনের মুখে শারপিন পাড়া, উত্তর সোনাপুর, সোনাপুর, চাইরগাঁও ও নাসিমপুর গ্রাম এখন মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
নীতিমালা লঙ্ঘন ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'নদী ইজারা নেওয়া হলেও ইজারাদাররা কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেন না। পাহাড়ি ঢলের পাশাপাশি ইজারা বহির্ভূতভাবে নদীর পাড় ও ফসলি জমি খনন করে বালু উত্তোলন করায় ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। স্থানীয় একটি ‘বালু খেকো সিন্ডিকেট’ ইজারাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে।'
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা দিলে নিরীহ গ্রামবাসীকে মামলা ও হামলার ভয়ভীতি দেখানো হয়। স্থানীয় প্রশাসন কিংবা বিজিবি’র কাছে বারবার অভিযোগ করেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় এলাকাবাসী ছাতক-দোয়ারাবাজার আসনের সংসদ সদস্য কলিমউদ্দিন আহমেদ মিলন-এর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একইসঙ্গে নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ এবং নীতিমালা লঙ্ঘনকারী ইজারাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের নিকট দাবি জানান।
আজিজুর রহমান এর সভাপতিত্বে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন, নুরুল ইসলাম নুরু, নওশাদ জামিল, সাখাওয়াত হোসেন কবির, মোবারক হোসেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আবু তাহের, আব্দুল হান্নান, আরব আলী, ফরিদ আহমদ, আজাদ মিয়া, জামাল মিয়া, কটুমিয়া, আব্দুছ সালাম, জাকির হোসেন, আব্দুল হেকিম, বিল্লাল হোসেনসহ কয়েক শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।
তবে জানতে চাইলে ইজারাদার প্রতিনিধি আকব জানান, তারা ইজারা নীতিমালা বহির্ভূত বালু উত্তোলন করছেন না। সরকারি নিয়ম মেনেই নদী থেকে বালু আহরণ করছেন।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ঘরবাড়ি ও শেষ সম্বল রক্ষায় তারা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।

