

মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে চরম অব্যবস্থাপনা ও পিডিবি-পল্লী বিদ্যুতের লুকোচুরিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন গ্রাহকরা। চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৫-৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়ায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীরা। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের চূড়ান্ত প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকে না, আর সন্ধ্যায় পড়তে বসার সময়েই শুরু হয় বিদ্যুতের ভেল্কিবাজি। সামান্য বৃষ্টি বা মেঘের গর্জন শোনা গেলেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। অভিযোগ কেন্দ্রে ফোন দিলেও দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায় না বলে দাবি গ্রাহকদের।
উপজেলার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহিম আহমদ জানায়, “গত দুই মাস ধরে সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ থাকে না। দিনের বেলা কোনোমতে পড়লেও রাতে আলো না থাকায় পড়াশোনা করা যাচ্ছে না। পরীক্ষার ঠিক আগ মুহূর্তে এমন পরিস্থিতিতে আমরা দিশেহারা।” একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও। তারা বলছেন, রাতের বেলা অন্তত কয়েক ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকলে পরীক্ষার্থীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সদর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, 'ছাতক কেন্দ্রিক পিডিবি কর্তৃপক্ষের অবহেলায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। সামান্য ত্রুটি সারাতেও তিন-চার দিন সময় লেগে যায়। '
অন্যদিকে, বাংলাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আবুল হোসাইন বলেন, 'গ্রাহকরা সেবা না পেলেও মাস শেষে ঠিকই বিল পরিশোধ করছেন। কিন্তু পল্লী বিদ্যুতের নিম্নমুখী সেবার কারণে ক্ষোভ বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার স্বার্থে দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।'
লোডশেডিংয়ের সত্যতা স্বীকার করে সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম মিলন কুমার কুন্ডু জানান, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহে বড় ঘাটতি রয়েছে। তিনি বলেন, 'পুরো অঞ্চলেই চাহিদার বিপরীতে মাত্র ৪০-৪৫ শতাংশ বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে ৫৫-৬০ শতাংশ লোডশেডিং করতে আমরা বাধ্য হচ্ছি। এছাড়া ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ও যান্ত্রিক ক্রুটির কারণে সেবা প্রদানে কিছুটা বিলম্ব হয়।'
তবে কর্তৃপক্ষের এমন গাণিতিক ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা আসন্ন পাবলিক পরীক্ষা ও জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন।

