ঢাকা
১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ৮:৩৪
logo
প্রকাশিত : এপ্রিল ১৮, ২০২৬

দেশের রোল মডেল জেলা পরিষদ গড়ার প্রত্যয় কুমিল্লার প্রশাসক মোস্তাক মিয়ার

শাহাজাদা এমরান, কুমিল্লা: এক মাসও পূর্ণ হয়নি। অথচ এর মধ্যেই কুমিল্লা জেলা পরিষদে দৃশ্যমান পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে পরিষদের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য, উদ্দীপনা ও দায়িত্ববোধ। নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়ার আন্তরিক উদ্যোগ ও দৃঢ় নেতৃত্বে শুরু হয়েছে গত ১৭ বছরের জমে থাকা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার জঞ্জাল পরিষ্কারের কার্যক্রম।

দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—এই দায়িত্ব তিনি শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে নয়, বরং সততা, নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে চান। তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আমার উপর যে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তা আমি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে পালন করতে চাই। আমার লক্ষ্য—সততা, ন্যায় ও দক্ষতার মাধ্যমে কুমিল্লা জেলা পরিষদকে দেশের একটি রোল মডেল প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা, ইনশাআল্লাহ।”

সাম্প্রতিক কয়েক দিনে সরেজমিনে কুমিল্লা জেলা পরিষদ কার্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে এক ভিন্ন চিত্র। আগে যেখানে নানা অভিযোগ, ভোগান্তি ও অনিয়মের কথা শোনা যেত, এখন সেখানে সাধারণ মানুষের মাঝে তৈরি হয়েছে নতুন আশার সঞ্চার। সেবা নিতে আসা মানুষজন তুলনামূলক দ্রুত ও সন্তোষজনক সেবা পাচ্ছেন।

প্রশাসক মোস্তাক মিয়া নিজেও প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নিয়মিত অফিসে অবস্থান করছেন। তিনি সরাসরি সেবা নিতে আসা মানুষের কথা শুনছেন, সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছেন এবং প্রয়োজনবোধে নিজেই মাঠ পর্যায়ে গিয়ে পরিস্থিতি যাচাই করছেন। তার আন্তরিক আচরণ, হাসিমুখে সেবা প্রদান এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মানসিকতা সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

কুমিল্লা জেলা পরিষদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “গত ১৭ বছরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এই প্রতিষ্ঠান কার্যত দুর্বল হয়ে পড়েছিল। নাগরিক সেবার মান ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের। দায়িত্ব গ্রহণের পর দেখেছি, এই প্রতিষ্ঠানকে একটি রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠনের মতো ব্যবহার করা হয়েছে, যা একটি প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক।”

তিনি আরও জানান, জেলা পরিষদের বহু সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে বেদখলে রয়েছে। এসব সম্পত্তি উদ্ধারের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব বাড়ানো তার অন্যতম অগ্রাধিকার। ইতোমধ্যে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে নোটিশ প্রদান শুরু হয়েছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “দখলদারদের মধ্যে প্রভাবশালী ব্যক্তি থাকলেও কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জায়গা ছেড়ে না দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে সব সম্পত্তি উদ্ধার করা হবে।”

নাগরিক সেবা প্রসঙ্গে প্রশাসক মোস্তাক মিয়া বলেন, “আমি চাই না কেউ এই অফিসে এসে কষ্ট নিয়ে ফিরে যাক। প্রতিটি মানুষ যেন দ্রুত, সঠিক ও সম্মানজনক সেবা পায়—এটাই আমার প্রধান লক্ষ্য।” তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন যে, কোনো ধরনের ঘুষ বা দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না।

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি নিজে কোনো দুর্নীতি করব না এবং কাউকেও করতে দেব না। দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই সবাইকে জানিয়ে দিয়েছি—অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমার অবস্থান জিরো টলারেন্স। প্রয়োজন হলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সব মিলিয়ে, অল্প সময়ের মধ্যেই কুমিল্লা জেলা পরিষদে যে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের মাঝে আশার আলো জাগিয়েছে। প্রশাসক মোস্তাক মিয়ার নেতৃত্বে এই পরিবর্তনের ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে কুমিল্লা জেলা পরিষদ সত্যিই দেশের একটি আদর্শ ও রোল মডেল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সকলের।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram