

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের উলিপুরে পরপর দুদিনে দুই বৃদ্ধের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার ও মঙ্গলবার (১৩ ও ১৪ এপ্রিল) উপজেলার পান্ডুল ও গুনাইগাছ ইউনিয়নে এ ঘটনাগুলো ঘটে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের পূর্ব কালুডাঙ্গা গ্রামে নিজ বসতঘর থেকে মো. আব্দুল জব্বার (৬৪) নামে এক বৃদ্ধের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত মেহের আলীর ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে প্রতিদিনের মতো খাওয়া-দাওয়া শেষে নিজ ঘরে ঘুমাতে যান আব্দুল জব্বার। আজ (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তার ভগ্নিপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিম বকস খোঁজ নিতে গিয়ে ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। পরে ঘরে ঢুকে তিনি আব্দুল জব্বারকে ঘরের ধরনার সঙ্গে ঝুলে থাকতে দেখেন। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয়রা জানান, আব্দুল জব্বারের পারিবারিক জীবনে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিশেষ করে দ্বিতীয় স্ত্রী ফরিদা বেগমের নামে জমি লিখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথম পক্ষের সন্তানদের সঙ্গে প্রায়ই তার ঝগড়া-বিবাদ হতো। গত ১২ এপ্রিল এ নিয়ে তাদের মধ্যে আবারও বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দ্বিতীয় স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান।
অপরদিকে, এর একদিন আগে সোমবার (১৩ এপ্রিল) উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নের ঢেঁকিয়ারাম গ্রামে আব্দুল আখের ওরফে ফাকের (৬২) নামে আরেক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি ওই গ্রামের মৃত বানছার আলীর ছেলে।
পুলিশ জানায়, সোমবার ভোররাতে আব্দুল আখের বাড়ির আঙিনায় একটি কূলগাছ ও বাঁশের সঙ্গে বাঁধা দোলনার প্লাস্টিকের রশিতে গলায় ফাঁস দেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে তার ছেলে রুবেল মিয়ার স্ত্রী মাজেদা বেগম শ্বশুরকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে পুলিশকে খবর দেন।
উলিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, দুটি ঘটনায় মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
