ঢাকা
১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সন্ধ্যা ৭:৫১
logo
প্রকাশিত : এপ্রিল ১৩, ২০২৬

নিঝুম দ্বীপে ইব্রাহিম পার্টি’র বিরুদ্ধে নদী দখল ও জাল লুটের অভিযোগ

হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি: নোয়াখালীর হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপে বনভূমি, চর ও সী-বিচ এর জায়গা দখলের পর এবার নদী-খাল দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী ‘ইব্রাহিম পার্টি’র বিরুদ্ধে। তার অনুমতি ছাড়া নদীতে মাছ ধরতে যাওয়ায় জেলেদের জাল লুট, মারধর ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

গত শনিবার (১১ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে চর কবিরা সংলগ্ন নদীতে মাছ ধরতে গেলে ভোলার চরফ্যাশন এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মাঝির আড়াই লাখ টাকার জাল লুটের ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী আব্দুল মাঝি জানান, “আমরা কোরাল জাল ফেলতে গেলে একদল লোক ইব্রাহিম পার্টির নাম বলে আমাদের জোর করে নদী থেকে তুলে নেয়। পরে ইব্রাহিম পার্টি বলেন—‘চার কবিরা থেকে মনপুরার কালকিনি সীমান্ত পর্যন্ত সব আমার। এখানে মাছ ধরতে হলে আমার কাছ থেকে হার (ফার) ভাড়া নিতে হবে, না হলে নৌকা ছিদ্র করে দেব।’”

আব্দুল মাঝি আরও বলেন, “হুমকি দিয়ে আমাদের তাড়িয়ে দেওয়ার পর দেখি নদীতে ফেলা আড়াই লাখ টাকার জাল নেই। পরে তার কাছে গেলে প্রথমে অস্বীকার করেন। আমাদের ৮ কেজি ৮০০ গ্রামের একটি কোরাল মাছও নিয়ে যায় তার লোকজন। প্রায় ১০ হাজার টাকার মাছের বিপরীতে মাত্র দুই হাজার টাকা দিয়ে আমাদের পাঠিয়ে দেওয়া হয়।”

এ বিষয়ে ইব্রাহিম পার্টির সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাল লুটের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “জাল আমি নিইনি, নৌপুলিশ নিয়েছে।”

তবে নিঝুম দ্বীপ নৌপুলিশ ইনচার্জ আশিক জানান, এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে তিনি অবগত নন।

ঘটনার পর চারদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে গতকাল রোববার (১২ এপ্রিল) রাতে লুট হওয়া জালের অর্ধেক ফেরত পাঠানো হয় বলে জানান আব্দুল মাঝি। তবে বাকি জাল ফেরত না পাওয়ায় তিনি অভিযুক্তদের বিচার দাবি করেছেন।

এদিকে, এ ঘটনার মধ্যে গতরাতে নিঝুম দ্বীপের নামার বাজারে বিলাসের চা দোকানে স্থানীয় সোহরাব মাঝির ছেলে রাজিবকে মারধর করে ইব্রাহিম পার্টির ভাতিজা ইলিয়াস। ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, সাগরে জাল বসানোর ভাড়া না দেওয়ায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্তত ১০ জন জেলে জানান, তারা ১০ থেকে ৩০ বছর ধরে নিঝুম দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন। কিন্তু বর্তমানে ইব্রাহিম পার্টি ও তার ভাই খায়ের পার্টির গ্রুপকে চাঁদা না দিলে নদী বা সাগরে যাওয়া যায় না। প্রতি হার (ফার) বাবদ ৩০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়।

জেলেদের অভিযোগ, “চাঁদা না দিলে মারধর, জাল কেটে দেওয়া কিংবা নৌকা ডুবিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া সাগর থেকে মাছ এনে তাদের গদিতে দিতে বাধ্য করা হয়, কিন্তু সঠিক মূল্য পাওয়া যায় না। ৮০০ টাকার মাছের দাম দেওয়া হয় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, ৫০০ টাকার চিংড়ি দেওয়া হয় মাত্র ৬০ টাকা।”

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইব্রাহিম পার্টি বিভিন্ন গ্রুপ তৈরি করে নিঝুম দ্বীপের সী-বিচের উত্তর পাশে শতাধিক দাগ জমি, বনভূমি ও চর এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ দখলে নিয়েছেন। নামার বাজারে বিলাসবহুল হোটেলসহ কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, নিঝুম দ্বীপের তিনদিকে বঙ্গোপসাগর এবং একদিকে মেঘনা নদী বেষ্টিত। এই বিশাল জলাভূমির বিভিন্ন অংশ স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল করে ভাড়া ও বিক্রির মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

দ্বীপটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশই মৎস্যজীবী হলেও প্রভাবশালীদের দখলদারিত্বের কারণে অনেক জেলে এখন বেকার হয়ে পড়েছেন। সমুদ্রে মাছ ধরতে হলে মোটা অংকের ভাড়া দিতে হয়, যা দিতে না পারায় অনেকেই পেশা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।

এছাড়া, বন বিভাগের তথ্যমতে, নিঝুম দ্বীপ একটি জাতীয় উদ্যান হলেও প্রায় ২৫ হাজার মানুষের বসবাস থাকায় এটি ইউনিয়ন হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। একইসঙ্গে এলাকাটি ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ) এবং আশপাশের সমুদ্র অঞ্চল মেরিন প্রোটেক্টেড এরিয়া (এমপিএ) হিসেবে ঘোষিত। এই আইনি জটিলতাকে কাজে লাগিয়েই প্রভাবশালীরা সাধারণ জেলেদের শোষণ করছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

এ বিষয়ে নৌপুলিশ ইনচার্জ আশিক জানান, ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram