

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও ২৪ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে আজ সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই শিশুদের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে হাসপাতালটিতে এই রোগে আক্রান্ত বা উপসর্গযুক্ত মোট ৭২ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। যদিও গত একদিনে নতুন করে কোনো শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি, তবে পরিস্থিতির ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
হাসপাতালের দাপ্তরিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ১৭ মার্চ থেকে আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত সর্বমোট ২৪৮ জন শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা শেষে এ পর্যন্ত ১৭০ জন শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছে, যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় বাড়ি ফিরেছে ১৫ জন। তবে এই সময়ের মধ্যে দুর্ভাগ্যবশত ৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই বিচ্ছিন্নভাবে দু-একজন করে শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হতে শুরু করলেও গত মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকে।
বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬৪ শয্যাবিশিষ্ট একটি বিশেষায়িত পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু রাখা হয়েছে। সেখানে বিশেষায়িত তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে দিনরাত রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ সকাল পর্যন্ত ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় মোট ৬৮ জন শিশুর শরীরে হামের অস্তিত্ব নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের অধিকাংশই তীব্র জ্বর এবং গায়ে লালচে ফুসকুড়ির মতো লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে আসছে, যাদের জরুরি ভিত্তিতে আইসোলেশনে রেখে পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনা না ঘটা কিছুটা স্বস্তির হলেও সংক্রমণের হার এখনো উদ্বেগজনক। আক্রান্ত শিশুদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত ওষুধ ও জনবল নিয়োজিত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
একইসঙ্গে তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যাতে শিশুদের দ্রুত টিকাকেন্দ্রে নিয়ে আসা হয় এবং কোনো ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে হাসপাতালে যোগাযোগ করা হয়। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে এলাকাভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।

