ঢাকা
২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
বিকাল ৪:১০
logo
প্রকাশিত : মার্চ ৩১, ২০২৬

স্কুলের সামনে আইসক্রিম বিক্রি, তবুও বইয়ের টান—শিক্ষায় ফিরতে চায় মেহেদী

মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দারিদ্র্যের কষাঘাতে থেমে গেছে পড়ালেখা, তবুও স্বপ্ন দেখে আবার স্কুলে ফেরার। দিনাজপুরের বিরামপুর পৌরশহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কল্যাণপুর গ্রামের ১৪ বছর বয়সী কিশোর মেহেদী হাসান। যে বয়সে বই-খাতা আর খেলাধুলায় মেতে থাকার কথা, সেই বয়সেই তাকে জীবিকার তাগিদে ছুটতে হচ্ছে আইসক্রিমের ভ্যান নিয়ে।

জন্মের পরই বাবা লোকমান হোসেনকে হারায় মেহেদী। মা অন্যত্র সংসার গড়লে নানীর কাছেই বেড়ে ওঠা তার। চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও বিরামপুর পৌরসভা দাখিল মাদ্রাসা থেকে প্রাথমিক (ইবতেদায়ী) শিক্ষা শেষ করলেও ষষ্ঠ শ্রেণীতে ওঠার পর আর এগিয়ে যেতে পারেনি সে। তবুও তার চোখে এখনো জ্বলজ্বল করে পড়ালেখায় ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন।

৩১ মার্চ বিরামপুর পৌরশহরের দোয়েল স্টুডিও মোড় সংলগ্ন এলাকায় প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় মেহেদীর। ক্লান্ত শরীর, তবুও মুখে একরাশ আশা। জানায়, ভোরবেলা আইসক্রিমের ভ্যান নিয়ে বের হয়ে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করে সে। সারাদিন শেষে রাতের দিকে বাড়ি ফেরা।

এই পেশায় আসার আগে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করেছে সে। কিন্তু শারীরিক কষ্ট সহ্য করতে না পেরে বেছে নিয়েছে আইসক্রিম বিক্রির পথ।

মেহেদী জানায়, প্রতিদিন সকালে নানীর সঙ্গে বাড়ির কাজ সেরে শালবাগান রোডের একটি কারখানা থেকে আইসক্রিম নিয়ে বের হয়। এরপর পায়ে প্যাডেল চালিয়ে বিভিন্ন গ্রাম ও স্কুলের সামনে বিক্রি করে।

স্কুলের সামনে গিয়ে যখন তার সমবয়সী শিশুদের ক্লাসে যেতে দেখে, তখন তার মনটা কেঁদে ওঠে। “সুযোগ পেলে আবার পড়ালেখা করতাম”—লাজুক হাসিতে জানায় সে। দিন শেষে যা আয় হয়, সবই তুলে দেয় নানীর হাতে। সেই সামান্য আয়েই চলে তাদের সংসার।

নানী জাহানারা খাতুন জানান, অনেক কষ্ট করে মেহেদীকে পড়ানোর চেষ্টা করেছি। এখন আর্থিক সমস্যায় ছেলেটার পড়ালেখা করার ইচ্ছা আমি কুলে উঠতে পারছিনা।

মেহেদীর মতো আগ্রহী অথচ সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়াতে পারে সমাজের বিত্তবান মানুষ, শিক্ষা অনুরাগী কিংবা বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠান। একটু সহায়তাই ফিরিয়ে দিতে পারে তার স্বপ্নের আলো।

একটি বই, একটি সুযোগ—হয়তো বদলে দিতে পারে মেহেদীর জীবন। এখন শুধু অপেক্ষা, কেউ এগিয়ে আসবে—আবার স্কুলের পথে হাঁটবে এই ছোট্ট কিশোর।

এ বিষয়ে মেহেদীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিরামপুর পৌরসভা দাখিল মাদ্রাসার সুপার গোলাম মাওলার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, সে যদি পড়ালেখা করতে চায় আমার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সব রকমের সহযোগিতা করা হবে।

logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram