

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী অষ্টমীর স্নান ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় ৪শত বছর ধরে প্রতিবছর চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে এই ঐতিহ্যবাহী স্নান উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
হিন্দু ধর্ম মতে, এটি একটি পূন্য কর্ম এবং স্নানের স্থানটি তীর্থ স্থান। পঞ্জিকা হিসাব অনুযায়ী, স্নানের সময় অষ্টমী তিথী বুধবার বিকাল ৫টা ১৭মি ৫সেকেন্ড পর হতে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ৫৮মি.৩৩সে.পর্যন্ত। এবারে স্নানের কোন নির্দিষ্ট লগ্ন ছিল না। পুরো ২০ঘন্টাই ছিল স্নানের সময়। তাই দুর-দুরান্ত থেকে আসা পূন্যার্থীরা সারাদিনব্যাপী নিজেদের সুবিধামত সময়ে স্নানকার্য সম্পন্ন করেন।
হে মহা ভগ ব্রহ্মপুত্র, হে লৌহিত্য, তুমি আমার পাপ হরণ করো। মন্ত্র উচ্চারণ করে ব্রহ্মার নিকট কৃপা চেয়ে স্নান উৎসবে মেতে উঠেন পূণ্যার্থীরা।
অষ্টমী স্নানকে কেন্দ্র করে জোড়গাছ পুরাতন বাজার, নতুন বাজার, মাঝিপাড়া, ব্যাপারীপাড়া, গুড়াতিপাড়া, বাঁধের মোড় এবং চিলমারী বন্দরসহ প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানুষের ঢল নামে।আয়োজক কমিটির তথ্যমতে, এবারে প্রায় তিন লাখেরও বেশি পুণ্যার্থী উৎসবে অংশগ্রহণ করেন, যা বিগত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য।
স্নান উৎসবকে ঘিরে কয়েকদিন আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে পূণ্যার্থীর ভিড় জমে চিলমারী বন্দর ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে।
রংপুর তাজহাট থেকে স্নান উৎসবে আসা পূন্যার্থী শ্রাবনী রানী জানান, এবারে অষ্টমী স্নানের আনন্দটা একটু বেশী। তাই অনেক কষ্ট করে স্নান করতে এসেছি, পরিবেশ ভাল থাকায় স্নান করে তৃপ্তিও পেয়েছি।
অষ্টমী স্নান উৎসব কমিটির ভাষ্য মতে, প্রতি বছরের মত এবারও ভারত, নেপাল ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ৩ লক্ষাধিক পূণ্যার্থী যোগ দিয়েছে স্নান উৎসবে। স্নান উৎসবটি বুধবার অনুষ্ঠিত হলে ভারত ও নেপাল থেকে বেশি সংখ্যক হিন্দু ধর্মাবলম্বী আসতেন বলে ধারণা করেন তারা।
এদিকে ঐতিহ্যবাহী এই স্নান মেলার জন্য নির্দিষ্ট ঘাট না থাকায় প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে উন্মুক্ত স্নানঘাটে পূণ্যার্থীরা স্নানপর্ব সম্পন্ন করেছেন। স্নান উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। দুর-দুরান্ত থেকে আসা পূন্যার্থীদের নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার ও ভিডিপির পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন করাসহ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশী পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
স্নান উৎসব কমিটির আহবায়ক কোকিল চন্দ্র বলেন, শান্তিপূর্ন পরিবেশে স্নান সম্পন্ন হয়েছে, এবারে দেশ-বিদেশের প্রায় ৩লাখ পূণ্যার্থী স্নান উৎসবে যোগ দিয়েছিল। তিনি আরো জানান,পরিবেশ অনুকূলে থাকায় অন্যান্যবারের তুলনায় পূন্যার্থীর সংখ্যা অনেক বেশী হয়েছিল।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, অষ্টমী স্নানকে কেন্দ্র করে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প, নারী পুলিশ, আনসার ও ভিডিপির সদস্য মোতায়েন করা হয়। অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, পুলিশের টহল ও দুজন ডুবুরী সর্বদায় এখানে ছিল। এছাড়াও সিসিটিভির মাধ্যমে পুরো এলাকা মনিটরিং করা হয়েছে। সবার সহযোগিতায় পুণ্যার্থীরা নির্বিঘ্নে স্নান সম্পন্ন করতে পেরেছেন।
