

মো. নাসির উদ্দিন, টাঙ্গাইল: কৃষকদের উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত চিনাতে টাঙ্গাইলের ধনবাড়িতে রাইস গার্ডেন স্থাপন করা হয়েছে। যাতে করে কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন ধানের জাত একসাথে প্রদর্শনের মাধ্যমে তাদেরকে সঠিক জাত নির্বাচন করতে সহায়তা করা। অনেক সময় কৃষকরা পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে ধানের জাত নির্বাচনে বিভ্রান্তির সম্মুখীন হন। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি বিভিন্ন জাতের বৈশিষ্ট্য ও ফলন সম্ভাবনা তুলনা করতে পারবেন। এটি গবেষকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের সুযোগ সৃষ্টি করবে, যা নির্দিষ্ট এলাকার জন্য উপযোগী ধানের জাত নির্বাচন ও সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) আঞ্চলিক কার্যালয়, ধনবাড়ি টাঙ্গাইলের তত্ত্বাবধানে এবং স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন (এলএসটিডি) প্রকল্পের অর্থায়নে বোরো মৌসুম উপযোগী ৫৪টি ধানের জাত নিয়ে একটি রাইস গার্ডেন স্থাপন করা হয়েছে। কৃষকদের কাছে উন্নত ধানের জাত ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া, বিভিন্ন ধানের জাত সম্পর্কে বাস্তব ধারণা প্রদান এবং কৃষকদের উন্নত ধান চাষে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে এই রাইস গার্ডেন স্থাপন করা হয়।
রাইস গার্ডেনে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল বোরো ধানের জাত, হাইব্রিড ধানের জাত এবং স্বল্পমেয়াদি ধানের জাত একসাথে প্রদর্শন করা হয়েছে। প্রতিটি প্লটে আলাদা আলাদা ধানের জাত রোপণ করা হয়েছে, যাতে কৃষকরা সহজেই বিভিন্ন জাতের গাছের বৃদ্ধি, গাছের উচ্চতা, শীষের গঠন, রোগবালাই প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং সম্ভাব্য ফলন সম্পর্কে তুলনামূলক ধারণা লাভ করতে পারেন। এর ফলে একই স্থানে একাধিক জাতের ধান সরাসরি পর্যবেক্ষণ করে কৃষকরা তাদের জমির জন্য উপযোগী জাত নির্বাচন করতে পারবেন।
এই রাইস গার্ডেনকে কৃষকদের জন্য একটি কার্যকর প্রদর্শনী ও শিক্ষণীয় ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকরা সরাসরি ধানের বিভিন্ন জাতের বৃদ্ধি ও বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন, যা তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে নতুন ও উন্নত ধানের জাত সম্পর্কে কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে এবং তারা আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণে আরও উদ্বুদ্ধ হবেন।
সংশ্লিষ্ট বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তারা জানান, এ ধরনের রাইস গার্ডেনের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল ধানের জাতের চাষাবাদ সম্প্রসারিত হবে। এর ফলে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন জাতের ধানের কার্যকারিতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
ভবিষ্যতে এই রাইস গার্ডেনকে কেন্দ্র করে কৃষকদের জন্য মাঠ দিবস, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং প্রযুক্তি প্রদর্শনের আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি গবেষক ও কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করতে পারবেন এবং আধুনিক ধান চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে আরও সম্যক ধারণা লাভ করবেন।
এলএসটিডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, রাইস গার্ডেন স্থাপনের মূল উদ্দেশ্য হলো কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন ধানের জাত একসাথে প্রদর্শনের মাধ্যমে তাদেরকে সঠিক জাত নির্বাচন করতে সহায়তা করা। অনেক সময় কৃষকরা পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে ধানের জাত নির্বাচনে বিভ্রান্তির সম্মুখীন হন। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি বিভিন্ন জাতের বৈশিষ্ট্য ও ফলন সম্ভাবনা তুলনা করতে পারবেন। পাশাপাশি এটি গবেষকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের সুযোগ সৃষ্টি করবে, যা নির্দিষ্ট এলাকার জন্য উপযোগী ধানের জাত নির্বাচন ও সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

