

মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পানগুছি নদীর তীরবর্তী শহিদুল ইসলাম শেখ (১৮) নামের নিখোঁজ এক ভ্যান চালক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছেন নৌ পুলিশ।
সোমবার বেলা ১১ টার দিকে শ্রেনীখালী নদীর চর থেকে নিহত ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনার পর পরই মোরেলগঞ্জ থানা ওসি মাহামুদুর রহমান ও নৌ পুলিশের ওসি সালাউদ্দিন পৃথক পৃথক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মোরেলগঞ্জ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড সানকিভাংগা গ্রামের সোহেল শেখের ছেলে শহিদুল ইসলাম শেখ (১৮) ভ্যান চালক শুক্রবার বিকাল ৩ টার দিকে বাড়ি থেকে পরিবারের সাথে রাগ করে বেরিয়ে যায়। পরবর্তীতে তার পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুজির পরেও তাকে পাওয়া যায়নি। বাড়ী থেকে বের হবার পরে ওই যুবকের কাছে কোন মোবাইল ছিল না যে কারনে তার সাথে কোন যোগাযোগ রাখতে পারেনি। ৩ দিন ধরে না পেয়ে সোমবার সকালে বলইবুনিয়া ইউনিয়নের শ্রেনীখালী নদীর চর এলাকায় স্থানীয় লোকজন ভাসমান অবস্থায় লাশ দেখতে পেয়ে থানা পুলিশকে জানান। পরে স্থানীয়রা সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক ওই যুবকের ছবি পোষ্ট দিলে তার পিতা মাতা ছবি দেখে লাশ সনাক্ত করতে ঘটনাস্থলে আসেন এবং তারা তাদের ছেলে নিখোজ শহিদুল ইসলামের লাশ সনাক্ত করেন। উদ্ধারকৃত যুবকের গায়ে খয়রি কালারের গেঞ্জি, কালো জিঞ্চ প্যান্ট পরিহিত ছিল।
শ্রেনীখালী সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ এমদাত শেখ বলেন, সকালে স্থানীয় কৃষক গরু মাঠে নিয়ে চড়াতে আসলে নদীর চরে একটি লাশ ভাসমান দেখতে পেয়ে তাকে জানালে, তিনি তাৎক্ষনিক ঘটনাটি থানা পুলিশসহ স্থানীয় আরও লোকজনকে অবহিত করেন।
নিহত শহিদুল ইসলামের পিতা সোহেল শেখ মাতা মর্জিনা বেগম বলেন, বাড়ীতে একটু কথা কাটাকাটির জের ধরে রাগ করে ৩ দিন পূর্বে শুক্রবার বিকেল ৩ টার দিকে তার ছেলে শহিদুল বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যায়। ২ দিন আগে নিজের মোবাইল নিজেই ভেঙ্গে ফেলেছে যে কারনে ছেলের সাথে মোবাইল না থাকায় যোগাযোগ ছিল না। সকালে ছোলমবাড়িয়া বাসস্টান্ডের স্থানীয় লোকজন সংবাদ দিলে উদ্ধারকৃত লাশ তার ছেলে শহিদুল ইসলামের।
এ বিষয়ে সন্ন্যাসী ফাড়ি নৌ পুলিশের ওসি সালাউদ্দিন বলেন, মোবাইল ফোনে নদীর চরে ভাসমান যুবকের লাশের সংবাদ পেয়ে সঙ্গী ও ফোর্স টিমসহ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই যুবকের পিতা মাতা ও তার পরিচয় জানিয়েছেন। উদ্ধারকৃত লাশের শরীরের কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি। লাশটি ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে নিহতের পিতা সোহেল শেখ বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন।
