ঢাকা
১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ১০:১১
logo
প্রকাশিত : মার্চ ১৫, ২০২৬

৬ মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ৩ বছরে শুধু দুই পিলার

অতুল পাল, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: বাউফলের চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে একটি সেতু নির্মাণের কাজ ছয় মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সাড়ে তিন বছর পার করে কেবল দুটি পিলার দাড় করানো ছাড়া কোন কাজই হয়নি। কাজ ফেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উধাও হয়ে যাওয়ায় বছরের পর বছর চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক গ্রামের হাজার হাজার মানুষ।

সূত্র থেকে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপণা মন্ত্রণালয়ের “গ্রামীণ সড়কে ১৫ মিটার পর্যন্ত সেতু নির্মাণ” প্রকল্পের আওতায় চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের দিয়ারা-কচুয়ার জনতা বাজার খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৬৬ লাখ ৮ হাজার ৯৯৮ টাকা। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসাবে পটুয়াখালীর মেসার্স সাফিন এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কয়েক দফা সময় বাড়ানো হলেও কাজের কোনো অগ্রগতি হয়নি। তিন বছরে দৃশ্যমান কাজ হয়েছে কেবল দুটি পিলার নির্মাণ। প্রায় এক বছর ধরে নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদার লাপাত্তা থাকায় স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে সেতুর পাশে কাঠের একটি ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো তৈরি করে চলাচল করছেন। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন, ঘটছে দুর্ঘটনা। দক্ষিণ ও উত্তর কচুয়া গ্রামের হাজার হাজার মানুষের একমাত্র চলাচলের পথের এই সেতুটি দ্রুত নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আনোয়ার হোসেন (৪৮) বলেন, ২০২৩ সালে ব্রিজের কাজ শুরু হয়। কিছুদিন কাজ করার পর ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দেন। এরপর থেকে এক বছর ধরে লাপাত্তা রয়েছেন ঠিকাদার।

মজিবর রহমান মাঝি (৫৩) নামের একজন বাসিন্দা জানান, জনগণের হাটা-চলার সুবিধার্থে ব্রিজ নির্মাণকালিন সময়ের জন্য ঠিকাদারের পক্ষ থেকে কাঠের সাঁকো তৈরি করে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদার কাঠের সাঁকো না করায় আমরা নিজেরাই চাঁদা তুলে সাঁকো বানিয়ে চলাচল করছি। এতে প্রায় সময়েই দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন। একই এলাকার বাসিন্দা রহিমা বেগম (৩৯) বলেন, নড়বড়ে সাঁকোর কারণে অনেক সময় ছেলে-মেয়েরা স্কুল-মাদ্রাসায় যেতে পারছেনা। অনেকেই পড়ে গিয়ে আহত হয়েছে।

এ বিষয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মোর্শেদ মুরাদ বলেন, যখন কাজ শুরু হয় তখন আমি এখানে কর্মরত ছিলাম না। ঠিকাদারকে ৩৩ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। যোগদানের পর বিষয়টি জানতে পেরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ শুরু করতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু না করলে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram