

ওমর ফারুক, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাইয়ে নদীর বুক জুড়ে গড়ে উঠেছে ফসলের মাঠ। এক সময়ের খরস্রোতা এ নদীতে সারা বছর পানি থাকলেও বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমের আগেই নদীটি পানি শূন্য হয়ে যায়। ফলে নদীর বুক জুড়ে কৃষক চাষ করছেন বোরো ধান, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসল।
জানা যায়, এক সময় ইতিহাস খ্যাত আত্রাই নদী উত্তাল থাকতো। এ নদী দিয়ে বয়ে যেত অনেক পালতোলা নৌকা। নদী পথে পরিবহন করা হতো বিভিন্ন মালামাল। স্থানীয় জনসাধারণের চলাচলের জন্য একমাত্র পথই ছিল নৌ পথ। ইতিহাস ও ঐতিহ্যগত দিক থেকে আত্রাই নদীর ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। এ নদী ভারতের পশ্চিম বঙ্গের জলপাইগুড়ির ত্রিস্রতা থেকে উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশের দিনাজপুর, নওগাঁর ধামুইরহাট, পত্নীতলা, মহাদেবপুর, মান্দা হয়ে আত্রাইয়ে প্রবেশ করেছে।
ঐতিহাসিকভাবে এই নদীটি উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ নদী বলেও খ্যাতি রয়েছে। নদীটি আত্রাই উপজেলা পরিষদের নিকট এসে দক্ষিণে মোড় নিয়ে নাটোরের সিংড়া, বিখ্যাত চলনবিলের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে যমুনায় গিয়ে মিলিত হয়েছে। অন্যদিকে আত্রাই উপজেলা পরিষদের উত্তর দিকে মোড় নিয়ে আত্রাই নদী থেকে গুড় নদী নামে একটি শাখা নদী সিংড়া অভিমুখে প্রবাহিত হয়। কালের বিবর্তনে নদীটি এখন মরা নদীতে পরিণত হয়েছে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় এটি কোন নদী নয়, একটি খাল মাত্র।
এদিকে গত শতাব্দীর আশির দশকে নওগাঁর আত্রাই উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন বিশাল আত্রাই নদীর ওপর মাত্র এক গেট বিশিষ্ট একটি স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়। এ স্লুইসগেট নির্মাণের কারণেই নদীতে পানির প্রবাহ কমে যায়। ধীরে ধীরে নদীটি মরা নদীতে পরিণত হয়। ফলে এখন নদীর বুক জুড়ে চাষ হচ্ছে বিভিন্ন প্রকারের ফসল।
বিশেষ করে এ মৌসুমে উপজেলার পাঁচপাকিয়া থেকে শুরু করে বিপ্রবোয়ালিয়া হয়ে পারবিশা পর্যন্ত নদীর বুক জুড়ে যে ফসলের মাঠ গড়ে উঠেছে তা অনেকটাই দৃষ্টি নন্দন। বিপ্রবোয়ালিয়া গ্রামের গোলাম মোস্তফা, জিল্লুর রহমান, খোদ্র বোয়ালিয়া গ্রামের আব্দুল মজিদ, কাঁন্দওয়ালমা গ্রামের ওহিদুল রহমানসহ ওই এলাকার কৃষকরা জানান, আগে এ নদীতে সারা বছর পানি থাকতো। তখন মাছ শিকার করা হতো। এখন শুষ্ক মৌসুমে যেহেতু পানি থাকে না তাই নদীর বুক জুড়ে বোরো ধানসহ বিভিন্ন প্রকারের আবাদ করি আমরা।
