

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে দীর্ঘদিন ধরে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর পদটি শূন্য থাকায় স্যানিটেশন ব্যবস্থা বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। স্যানিটেশন ব্যবস্থায় চরম অব্যবস্থাপনায় জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এ গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মকর্তা না থাকায় পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, বাজারের স্বাস্থ্যবিধি, খাবারের মান নিয়ন্ত্রণসহ নানা কার্যক্রম কার্যত তদারকিহীন হয়ে পড়েছে।
রোববার (১৫ মার্চ) সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বৃহৎ রানীগঞ্জ বাজার, ওসমানপুর, ডুগডুগিহাট সহ বিভিন্ন স্থানে ড্রেনের ওপর ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে থাকতে দেখা যায়। অনেক জায়গায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে থাকায় নোংরা পানি জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। মাছ ও মাংসের দোকানের সামনে অপরিষ্কার পরিবেশে বর্জ্য ফেলে রাখা হয়েছে, যার কারণে মাছি ও পোকামাকড়ের উপদ্রব লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া কয়েকটি হোটেল ও মিষ্টির দোকানে খাবার খোলা অবস্থায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। দোকানের ভেতরে পর্যাপ্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা না থাকায় খাবারের স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনেক দোকানে হাত ধোয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই বলেও দেখা যায়। বাজারের কিছু স্থানে অপরিচ্ছন্ন টয়লেট ব্যবস্থাও চোখে পড়ে। এসব টয়লেট থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় পথচারী ও ক্রেতাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। পাশাপাশি বাজারের আশপাশে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনার কারণে পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের অন্যতম দায়িত্ব হচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পয়ঃনিষ্কাশন ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা, বাজার ও কসাইখানায় স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং হোটেল-রেস্টুরেন্টে খাবারের মান পরীক্ষা করা। এছাড়া জনসাধারণকে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন, নিরাপদ পানি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতন করা এবং মশা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে কার্যক্রম তদারকি করাও এ পদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কিন্তু ২০২৩ এর ফেব্রুয়ারি থেকে এই পদটি শূন্য থাকায় এসব কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। সূত্র আরও জানায়, বর্তমানে পার্শ্ববর্তী হাকিমপুর উপজেলা থেকে একজন স্যানিটারি ইন্সপেক্টর এখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করলেও তা এ উপজেলার জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় যথেষ্ঠ নয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন বাজার, হোটেল-রেস্টুরেন্ট ও মিষ্টির দোকানে খাবারের স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ঠিকভাবে তদারকি করা হচ্ছে না। একই সঙ্গে অনেক স্থানে ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছে এবং টয়লেট ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার যথাযথ নজরদারি না থাকায় নোংরা পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উপজেলার জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর থাকলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বা নোংরা খাবার বিক্রির অভিযোগ পেলে প্রশাসনের সাথে মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সহায়তা করা সম্ভব হতো। এছাড়া নিরাপদ পানির উৎস, যেমন টিউবওয়েল বা অন্যান্য পানির উৎস স্বাস্থ্যসম্মত কিনা তা নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা উপজেলা প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট করার সুযোগও থাকত।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সোলায়মান হোসেন মেহেদী বলেন, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর পদটি জনস্বাস্থ্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপজেলার বিভিন্ন বাজার, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, কসাইখানা ও জনসমাগমস্থলে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা তদারকি করা-এসব কাজ মূলত স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের মাধ্যমে কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পদটি শূন্য থাকায় নিয়মিত তদারকি ব্যাহত হচ্ছে। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জনসচেতনতা বাড়ানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে যা অপ্রতুল। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত এ পদে নিয়োগ দিয়ে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা হলে উপজেলার জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
এ নিয়ে কথা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবানা তানজিন বলেন, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর পদটি শূন্য থাকায় বাজার, হোটেল-রেস্টুরেন্ট ও কসাইখানায় স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার নিয়মিত তদারকি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক সময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা বা স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়াও জটিল হয়ে যায়। জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর যেন দ্রুত এই পদে নিয়োগ দেন সেই বিষয়ে আমি স্বাস্থ্য দপ্তর সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কথা বলেছি।
