

মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত ছোট যমুনা নদী একসময় ছিল দেশীয় প্রজাতির মাছের সমৃদ্ধ ভাণ্ডার। কিন্তু বর্তমানে নদীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে ঘের তৈরি করে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি না থাকায় দিন দিন নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদ হুমকির মুখে পড়ছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে সরেজমিনে ছোট যমুনা নদীর বিভিন্ন স্থানে জাল নিয়ে মাছ ধরতে দেখা যায় কয়েকজন কিশোর ও যুবককে। তবে দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও তেমন মাছ না পেয়ে অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যান। জেলেদের দাবি, আগের মতো দেশীয় মাছ তো দূরের কথা, ছোট মাছও এখন খুব কম পাওয়া যায়।
তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, দিনাজপুর এর অধীনে ছোট যমুনা নদীর ০.০০ কিলোমিটার থেকে ১৩.০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পুনঃখনন কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। “৬৪ জেলার অভ্যন্তরস্থ ছোট নদী, খাল এবং জলাশয় পুনঃখনন (১ম পর্যায়)” প্রকল্পের আওতায় প্যাকেজ নং উরহধলঢ়ঁৎ-ড-১৯/২০২১-২২ এর মাধ্যমে ২৪ আগস্ট ২০২২ তারিখে কাজ শুরু হয়ে ৩০ জুন ২০২৩ তারিখে সমাপ্ত হয়। এ প্রকল্পে ব্যয় হয় প্রায় ৮৬৮.৬৮ লাখ টাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুনঃখননের সুফল স্থায়ী হওয়ার আগেই নদীর মাঝামাঝি স্থানে বাঁশ ও জাল দিয়ে অবৈধভাবে ঘের তৈরি করে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং মাছের স্বাভাবিক প্রজননও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে দিন দিন কমে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ।
এ বিষয়ে পলিপ্রয়াগপুর মৎস্য সমিতির সভাপতি বাবু ফকির বলেন, নদীতে তেমন কোনো নিয়মিত নজরদারি নেই। প্রশাসনের কড়াকড়ি না থাকায় কিছু অসাধু ব্যক্তি সুযোগ নিচ্ছে। নজরদারি জোরদার হলে এ অবস্থা থাকতো না।
এদিকে মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, নদীতে মাছ কমে যাওয়ায় বাজারে মাছের দামও বেড়ে যাচ্ছে।
সরকারি অর্থ ব্যয়ে পুনঃখননকৃত নদী রক্ষায় যদি কার্যকর মনিটরিং না থাকে, তাহলে প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি সুফল কতটা টেকসই হবে? অবৈধ ঘের উচ্ছেদ, নিয়মিত তদারকি এবং নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিরামপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা আক্তার সুমি বলেন, নদীতে অবৈধভাবে ঘের তৈরি করে মাছ শিকারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এ ধরনের কার্যক্রম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
