

চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: বসন্তের আগমনে যখন শিমুল-পলাশ নিয়ে মাতামাতি চলে, তখন অনেকটা নীরবেই গ্রামের ঝোপঝাড় আর রাস্তার পাশে সৌরভ ছড়াতে থাকে ভাঁটি ফুল বা ভাঁট ফুল।
গ্রামবাংলার অতি পরিচিত এই বুনো ফুলটি অবহেলিত হলেও এর রূপ আর সুবাস কোনো অংশেই কম নয়। মূলত ফাল্গুন ও চৈত্র মাসেই এই ফুলের সমারোহ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এ ফুলের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর তীব্র ও মিষ্টি সুবাস। দিনের বেলা গন্ধ খুব একটা বোঝা না গেলেও, বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই চারপাশ ম ম করে ওঠে এর ঘ্রাণে।
ভাঁট ফুলকে অনেকে 'ঘেঁটু ফুল' নামেও চেনেন। এর বৈজ্ঞানিক নাম Clerodendrum viscosum। ঝোপালো এই গাছের মাথায় থোকায় থোকায় সাদা ফুল যখন ফোটে, তখন মনে হয় যেন সবুজ পাতায় নক্ষত্র নেমে এসেছে। ফুলের পাপড়িগুলো ধবধবে সাদা হলেও এর মাঝখানের লম্বা পরাগদণ্ডগুলো বেগুনি বা লালচে আভার হয়, যা ফুলটিকে এক অন্যরকম আভিজাত্য দান করে।
এ বিষয়ে বরেন্দ্র বনসাই সোসাইটির সদস্য কবি পংকজ মন্ডল জানান, এক সময় বাংলার মাঠ-ঘাট, বন-বাদাড়ে ভাঁট ফুলের বন অঢেল দেখা যেত। কিন্তু নগরায়ন এবং ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে ফেলার প্রবণতায় এই বুনো ফুলটি এখন অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। অথচ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এবং মৌমাছি ও প্রজাপতির খাদ্য জোগানে এই বুনো ফুলগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম।

