ঢাকা
২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ১০:৪৬
logo
প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬

ফকিরহাটে প্রকাশ্যে বিক্রি নিষিদ্ধ বুনো ও পরিযায়ী পাখি, নির্বিঘ্নে চলছে শিকার

মোঃ সাগর মল্লিক, ফকিরহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে ধরা নিষিদ্ধ পরিযায়ী ও বিভিন্ন বুনো পাখি। সারা শীত মৌসুমজুড়ে একটি সংঘবদ্ধ শিকারি চক্র এসব পাখি শিকারে তৎপর রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বারুইডাঙার বিল, বগুড়ার বিল, কোদলার বিল, হুচলা, ডহর মৌভোগ, মুলঘর, ফলতিতা, কাকডাংগা, কলকলিয়া, কেন্দুয়া বিলসহ আশপাশের বিভিন্ন জলাশয়ে আশ্রয় নেওয়া অতিথি ও দেশি বুনো পাখি নির্বিঘ্নে শিকার করা হচ্ছে। শিকারের পর এসব পাখি স্থানীয় হাট-বাজারে প্রকাশ্যে এবং গোপনে থলের ভেতরে করে বিক্রি করা হচ্ছে।

প্রতি জোড়া অতিথি পাখি আকারভেদে ৩০০ থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি পাখির জোড়া বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। বেশি লাভের আশায় এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি পাখি শিকার ও বেচাকেনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। পরিচিত লোকের মাধ্যমে ফোনে অর্ডার দিলেই নির্দিষ্ট স্থানে পাখি সরবরাহ করা হচ্ছে। এলাকার এলিট শ্রেণিসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ এসব পাখি কিনে ভক্ষণ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলার ফকিরহাট বাজার, ফলতিতা বাজার, মানসা বাজার, টাউন নওয়াপাড়া হাট ও কলকলিয়াসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে নিষিদ্ধ অতিথি পাখির বেচাকেনা হচ্ছে। বিক্রি হওয়া পাখির মধ্যে রাতচরা বক, সোনাজঙ্গ, ডুঙ্কর, খেনি, স্নাইপ বা কাদাখোঁচা, খুরুলে, জলকৌড়ি, বুনো হাঁস, সারস, কুনচুষীসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি রয়েছে। পাশাপাশি দেশি কানী বক, সাদা বক, ঘুঘু ও ডাহুক পাখিও বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার ফলতিতা মৎস্য বাজারে গিয়ে দেখা যায়, একাধিক ব্যক্তি বাজারে এসব পাখি বিক্রির জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এ সময় এক কিশোর ১০-১২টি বন্য কানী বক বিক্রির জন্য ক্রেতাদের সঙ্গে দরদাম করছিল। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে বিক্রেতারা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের নজরদারি এড়াতে পাখি শিকারীরা কৌশল পরিবর্তন করে স্থান পরিবর্তন করছে। ফলে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বড় ধরনের হুমকি তৈরি হয়েছে।

দেশবরেণ্য পাখি বিশেষজ্ঞ শরীফ খান বলেন, “প্রতি বছর শীত মৌসুমে সাইবেরিয়া, চীন, মঙ্গোলিয়া, ভারতসহ হিমালয়সংলগ্ন বিভিন্ন দেশ থেকে পরিযায়ী পাখিরা বাংলাদেশে আসে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে যে কোনো পাখি ও বন্যপ্রাণী শিকার ও পালন দণ্ডনীয় অপরাধ। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।”

সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বনবিভাগ কাজ করছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে প্রশাসনের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করা হবে। বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram