

তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ, জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: জামালগঞ্জে হাওরের আগাম বন্যা থেকে বোরো ফসলের সুরক্ষায় নীতিমালা অনুযায়ী সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। হাওরের ডুবন্ত বাঁধ মেরামত ও পুনঃনির্মাণে জেলার জামালগঞ্জ উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নূর এর উপস্থিতে হালির হওরে ২০ নং উপ প্রকল্পের (১৫,১০,৬২৯.৪২ টা.) কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা, বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ জয়নাল আবেদীন, পাউবোর উপ সহকারী প্রকৌশলী ও জামালগঞ্জ শাখা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জনি, গণমাধ্যম প্রতিনিধি সাংবাদিক তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ, মৎস্য কর্মকর্তার প্রতিনিধি অফিস সহকারী মো: হুমায়ুন কবির, স্থানীয় কৃষক মোঃ জয়নাল আবেদীন, মো: হাসিম, হারিছ উদ্দিন, আক্কল আলী প্রমুখ। হরিনগর জামে সমজিদের ইমাম মাও: আনোয়ার হোসেনের মোনাজাত শেষে বাঁধে মাটি দেয়া হয়।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, জামালগঞ্জে হালির হাওরে ২২টি, মহালিয়া হাওরে ২টি, মিনি পাকনার হাওরে ২টি, পাগনার হাওরে ১১টি, জোয়াল ভাঙ্গা হাওরে ১টি ও জামালগঞ্জ সংলগ্ন শনির হাওরের কিয়দাংশে ৩টি বেড়িবাঁধ নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড পওর-১ নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, হাওরে এখনো অনেক পানি বাঁধের সার্ভে কাজ ও স্কীম প্রস্তুত করতে বিলম্ব হয়েছে। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি কাজ করার। ইতোমধ্যে ১৫ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরু হয়ছে। সকলের সহযোগিতায় আমরা বাঁধের কাজ এগিয়ে নেব।
এদিকে, বাঁধ নির্মাণের শেষ তারিখ ২৮ ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখে মনিটরিং জোরদারের পাশাপাশি টেকসই ভাবে বাঁধের কাজ সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্রে জানানো হয়, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের সংশোধিত কাবিটা নীতিমালায় হাওরের ডুবন্ত বাঁধ মেরামত ও পুনর্নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ৫১০টি প্রকল্প প্রস্তুত রয়েছে। জরীপকৃত বাঁধের মধ্যে ৪৩৩ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের জন্য ১০৩ কোটি ৩২ লাখ টাকার প্রয়োজন। তবে শতভাগ স্কীম প্রনয়ণের পর বরাদ্দ ও প্রকল্পের পরিমাণ বাড়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন পর্যন্ত অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ১০টি প্রকল্পে ৪.৬৭৯ কিলোমিটারের জন্য ১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা ২৩টি প্রকল্পে ১৫.৬৫৪ কিলোমিটারের জন্য ৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, তাহিরপুর উপজেলায় ৭৩টি প্রকল্পে ৬৭.০৬৪ কিলোমিটার বাঁধের জন্য ১৬ কোটি টাকা, জামালগঞ্জ উপজেলায় ৩৭টি প্রকল্পে ৪০.৭১১ কিলোমিটার বাঁধের জন্য ৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, ধর্মপাশা উপজেলায় ৭৭টি প্রকল্পে ১০১.১০৯ কিলোমিটার বাঁধের জন্য ১৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, মধ্যনগর উপজেলার ৪১ প্রকল্পে ৫৮.১৫৯ কিলোমিটার বাঁধের জন্য ৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা, জগন্নাথপুর উপজেলার ৩৭টি প্রকল্পে ১৮.১৭৯ কিলোমিটার বাঁধের জন্য ৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা, শান্তিগঞ্জ উপজেলার ৪৮টি প্রকল্পে ৩৩.৩০২ কিলোমিটার বাঁধের জন্য ৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা, দিরাই উপজেলায় ৬২ প্রকল্পে ৩৬.৮৪০ কিলোমিটার বাঁধের জন্য ১৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা, শাল্লা উপজেলার ৬২ প্রকল্পে ৪৩.১৭৭ কিলোমিটার বাঁধের জন্য ১৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ১৫টি প্রকল্পে ৫.৯৩২ কিলোমিটার বাঁধের জন্য ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ও ছাতক উপজেলার ২৫ টি প্রকল্পে ৯.০১১ কিলোমিটার বাঁধের জন্য ২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নূর বলেন, ১৫ ডিসেম্বর থেকে জামালগঞ্জে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শুরু হয়েছে। নীতিমালা মেনে বাঁধ নির্মাণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমরা যথাসাধ্য গুরুত্ব দিয়ে বোরো ফসল রক্ষার চেষ্টা অব্যাহত রাখবো। তিনি সকল কৃষক ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজনের সহযোগিতা চেয়েছেন।
