

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের অস্বাভাবিক বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ে। বর্তমানে চেয়ারম্যান মাসিক ৮৬ হাজার টাকা মূল বেতন পান। এর পাশাপাশি বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা বাবদ আরও ৮৬ হাজার টাকা এবং আপ্যায়ন ভাতা হিসেবে ৩ হাজার টাকা পেয়ে থাকেন।
সেখান থেকে এক লাফে বেতন বৃদ্ধি করে ৬ লাখ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে বিএসইসির প্রস্তাবে। অন্যদিকে বর্তমানে কমিশনাররা মাসিক ৭৮ হাজার টাকা মূল বেতন ছাড়াও বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা বাবদ আরও ৭৮ হাজার টাকা এবং আপ্যায়ন ভাতা হিসেবে ২ হাজার ৫০০ টাকা পান। সেখান থেকে এক লাফে বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে ৪ লাখ টাকা।
জানা গেছে, সরকারের সর্বোচ্চ আমলাতান্ত্রিক পদ মন্ত্রিপরিষদ সচিবের মূল বেতন যেখানে ৮৬ হাজার টাকা, সেখানে একলাফে কয়েক গুণ বাড়িয়ে বিএসইসির শীর্ষ কর্মকর্তাদের জন্য অবাস্তব বেতন কাঠামোর প্রস্তাব করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রস্তাবে বলা হয়েছে, গত ৪ জুন বিএসইসির চেয়ারম্যান এবং তিনজন কমিশনারকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপত্র অনুযায়ী, চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। এর আগে অর্থ বিভাগের একটি স্মারকের মাধ্যমে বিএসইসির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান বাজারের দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের উচ্চ যোগ্যতা ও দক্ষতা বিবেচনায় তাদের এই বেতন-ভাতা পুনর্নিধারণ করা প্রয়োজন। এ কারণে চেয়ারম্যানের মাসিক বেতন ৬ লাখ টাকা এবং কমিশনারদের ৪ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রচলিত বিধি অনুযায়ী জ্বালানি ব্যবহারের নির্ধারিত সীমার মধ্যে সার্বক্ষণিক ব্যবহারের জন্য চালকসহ গাড়ি এবং অফিস ও আবাসিক টেলিফোন সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে এতে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিএসইসির আবেদন অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। অর্থ বিভাগের মতামতের পরে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সাঈদ কুতুব বলেন, বিএসইসির চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাবের বিষয়ে ইতোমধ্যে অর্থ বিভাগের মতামত চাওয়া হয়েছে। সেখান থেকে মতামত পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, ‘বিএসইসির চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নিয়োগ সম্পূর্ণ চুক্তিভিত্তিক। তাদের বেতন-ভাতাও চুক্তির মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়।
অন্যদিকে বিএসইসি কর্মকর্তাদের এমন অস্বাভাবিক বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাবকে যৌক্তিক মনে করছেন না বিশিষ্টজন ও সাবেক আমলারা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা এবং সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, বেতন বৃদ্ধির পক্ষে তারা যে যুক্তি দেখিয়েছেন, তা একেবারেই দুর্বোধ্য মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সমপর্যায়ের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদের কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধির আনুপাতিক হার কেমন, সেটিও এখানে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
