

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা না থাকলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র গাজার মতোই ইরানকে ধ্বংস করে দিত।
একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে তেহরান কোনো পরিস্থিতিতেই আলোচনা করবে না। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ-পরবর্তী সমঝোতা ঘিরে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই এ মন্তব্য সামনে এসেছে।
সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়ার খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার পাকিস্তান সফরকালে এসব কথা বলেন পেজেশকিয়ান। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের স্থায়ী সমাধান খুঁজতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান আলোচনায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমাদের আত্মরক্ষার জন্য যেসব ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, সেগুলো না থাকলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র গাজার মতোই ইরানকে ধ্বংস করে দিত। তারা বৃদ্ধ বা শিশু— কাউকেই রেহাই দিত না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনো অবস্থাতেই, কারও সঙ্গে, কখনোই আমাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করব না।’
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যস্থতাকারী পক্ষগুলোর মধ্যে হওয়া প্রাথমিক চুক্তিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইরানও উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলো এবং ইসরায়েলের দিকে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও হাজার হাজার ড্রোন নিক্ষেপ করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৮০-এর দশকে ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধের সময় দুর্বল আকাশ প্রতিরক্ষার ঘাটতি পূরণে ইরান প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গড়ে তোলে। পরবর্তীতে এসব ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ও নির্ভুলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
ইরান থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মসূচিকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং তেহরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের বিষয়ও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিল।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিত মিলেছে। গত সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বলতে চাই, অন্য দেশগুলোর কাছে যদি এসব থাকে, তাহলে তাদের (ইরানের) কিছুটা সক্ষমতা থাকা থেকে বঞ্চিত করা হয়তো খুব একটা ন্যায্য নয়।’
সূত্র : আল আরাবিয়া।
