

মোঃ আনোয়ার হোসেন, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে এখন শীতকালীন সবজির চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা। উপজেলার একুশটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় সব গ্রামে কৃষকরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বিভিন্ন জাতের শাক-সবজির চাষে।
সরেজমিনে উপজেলার গ্রামাঞ্চলে বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়, আলু, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, শিম, বরবটি, লালশাক, পালংশাক, ঢেঁড়স, করল্লা, টমেটো, মরিচ, মূলা, গাজরসহ নানা জাতের সবজি বাগান এখন শোভা ছড়াচ্ছে মাঠে। ভোরবেলা থেকেই শীতকালীন সবজি চাষাবাদ নিয়ে কৃষকদের বিভিন্ন কর্মব্যস্ততা দেখা গেছে। কেউ জমিতে সবজি তোলা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন, কেউ কীটনাশক স্প্রে করছেন, আবার কেউবা জমির আগাছা পরিষ্কার করছেন। আগাম মৌসুমি চাষাবাদে ইতোমধ্যে বাণিজ্যিক কৃষিকাজও বাড়তে শুরু করেছে। ফলে সবুজ ফসলের ক্ষেত রঙে রঙে ভরে উঠেছে। ইতোমধ্যে বাজারে আগাম শীতকালীন কিছু সবজিও বিক্রি শুরু হয়েছে। স্থানীয় হাট-বাজারে এ সব সবজির চাহিদা বাড়তে থাকায় কৃষকেরা ভালো দামের প্রত্যাশায় আগাম আবাদে মনোযোগী হয়ে উঠছেন।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, বর্ষা শেষে পানি নেমে গেলে উর্বর পলি জমে জমির উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে যায়। এ সময়ে কৃষকেরা অধিক সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যে মৌসুমের শুরুতেই চাষাবাদ শুরু করেন। বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির কারনে স্থানীয় ভাবে সবজি উৎপাদন বাড়াতে তারা বেশ আগ্রহী। লাউ, কুমড়া, শিম, বরবটি, পুঁইশাক, লালশাকসহ পুষ্টিগুণ-সমৃদ্ধ নানা সবজি চাষ এখন রীতিমতো প্রতিযোগিতার মতো রূপ নিয়েছে।
জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রবি মৌসুমে বসতবাড়ি ও কৃষি জমিতে সবজি চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ৪৫০ জন কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে সবজির বীজ বিতরণ করা হয়। গত বছর উপজেলার এক হাজার পাঁচশত হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ হয়েছে। এ বছর তা ছাড়িয়ে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে হাজার সাতশত হেক্টরে। ইতোমধ্যে ১৭/১৮ জাতের আগাম রবি সবজির চাষ সম্পন্ন হয়েছে।
কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামের কৃষক আবু জামাল জানান, আমি দুই বিঘা জমিতে গোল আলু, এক বিঘা জমিতে টমেটো, চার শতক জমিতে লাউ ও অর্ধ বিঘা জমিতে পেঁয়া-মরিচ চাষ করেছি। ফসল এখন পর্যন্ত খুব ভালো। লাভের মুখ দেখার আশায় আছি।
একই ইউনিয়নের সীতারামপুর গ্রামের কৃষক জামাল হোসেন বলেন, পতিত জমিতে আমি এক বিঘা জমিতে ফুলকপি-পাতাকপি এবং তিতাস নদীর তীরে অর্ধ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ ও রসুনের আবাদ করছি।
ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের পালপাড়া এলাকার কৃষক কুদ্দুস মিয়া বলেন, আমি দুই বিঘা জমিতে গোল আলো চাষ করছি। প্রতি বছরের মতো এবার ও ভালো ফলনের আশা করি। উপজেলা কৃষি অফিস কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণের পাশাপাশি আগাম লাভজনক শীতকালীন সবজি চাষে নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছে। এসব সবজির বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় কৃষকরা আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
