

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চলছে বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে মিরসরাই উপজেলা পাক হানাদার মুক্ত হয়। ৭ মার্চের পর থেকেই মিরসরাইয়ের সর্বস্তরের জনতা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
তৎকালীন মিরসরাই বিএলএফের ডেপুটি কমান্ডার ও প্রয়াত মিরসরাই সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাফর উদ্দিন আহাম্মদ চৌধুরী জীবদ্দশায় গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ৮ ডিসেম্বর সকালে তিনি সুফিয়া রোডে এসে দেখতে পান ওয়ার্লেস স্টেশন থেকে একটি পাক বাহিনীর জিপ তীব্র গতিতে বেরিয়ে যাচ্ছে এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই প্রচন্ড শব্দে কাঁপিয়ে ওয়ার্লেস স্টেশনটি ধ্বংস হয়ে যায়। শত্রুর অবস্থান নিশ্চিত হয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে সকল মুক্তিযোদ্ধার কাছে খবর পাঠানো হয় যোদ্ধারা যেন সুসংগঠিত হয়ে মিরসরাই থানা সদরের দিকে অগ্রসর হন।
বেলা ১০ টা নাগাদ মুক্তিযোদ্ধা জাফর উদ্দিন আহম্মদের বিএলএফ গ্রুপের মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রায় দুই শত মুক্তিযোদ্ধা মিরসরাই সদরের পূর্ব দিক ছাড়া বাকী তিন দিক ঘিরে ফেলে। বেলা ১১ টার দিকে মুক্তিযোদ্ধারা তিন দিক থেকে সংগঠিত হয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে একযোগে আক্রমণ শুরু করে। শুরু হয় পাক সেনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের গুলি বিনিময়। পাক সেনাদের অবস্থান ছিল বর্তমান মিরসরাই সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, মিরসরাই থানা, মিরসরাই সি.ও. অফিস। বৃষ্টির মতো গুলি বিনিময়ের একপর্যায়ে মনে হলো পাক সেনাদের পক্ষ থেকে কোন প্রতিরোধ আসছেনা। মুক্তিযোদ্ধারা সতর্কভাবে শত্রুর অবস্থানের দিকে গিয়ে দেখলেন পাক সেনারা পালিয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধারা থানায় প্রবেশ করে পাক সেনাদের ৮টি রাইফেল উদ্ধার করে। পাক সেনারা চট্টগ্রামের দিকে পালিয়ে গেছে বলে পরে জানা যায়। চট্টগ্রামের কোন অঞ্চল তখনো মুক্তির স্বাদ পায়নি। মিরসরাই শত্রু মুক্ত হয়েছে-এ কথা বাতাসে দ্রুত ছড়িয়ে যায় মিরসরাইয়ের সর্বত্র। মুহুর্তেই চতুর্দিক থেকে জয় বাংলা শ্লোগানে মুখরিত মিছিল আসতে থাকে। হাজারো জনতার ঢল নামে মিরসরাই সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। মৌলভী শেখ আহম্মদ কবির কোরআন তেলাওয়াত করেন। পরে জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা জাফর উদ্দিন আহাম্মদ চৌধুরীসহ মুক্তিযোদ্ধারা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। ঘোষণা করা হয় আজ ৮ ডিসেম্বর ১৯৭১ সাল মিরসরাই ভূখন্ড পাক বাহিনী মুক্ত একটি স্বাধীন এলাকা। সেই থেকে ৮ ডিসেম্বর উদযাপিত হয়ে আসছে মিরসরাই হানাদার মুক্ত দিবস হিসেবে।
