ঢাকা
logo
প্রকাশিত : December 2, 2025

এগিয়ে বিএনপি, আশায় জামায়াতও

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর চাঁদপুরের পাঁচটি আসনের রাজনীতি নতুন গতি ও উত্তেজনায় উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ ১৬ বছর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পেরে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মী ছিলেন কোণঠাসা ও প্রায় নিষ্ক্রিয়। রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, মামলা-হামলা ও গ্রেপ্তারের ভয়ে দীর্ঘদিন মাঠে নামতে পারেননি; কিন্তু সরকারের পতনের পর বিএনপি-জামায়াতসহ ছোট-বড় সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছেন। এলাকায় এলাকায় তারা আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছেন, জনসংযোগ শুরু করেছেন এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নতুন উদ্যমে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গ্রাম থেকে শহর- সব জায়গায় প্রচারে চাঞ্চল্য দৃশ্যমান।

অন্যদিকে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনীতি চাঁদপুরজুড়ে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। দলের বেশিরভাগ নেতা বিদেশে পালিয়ে গেছেন, কেউ আত্মগোপনে, আবার অনেকে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে। মাঠে আওয়ামী লীগের কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই। রাষ্ট্রীয়ভাবেও তাদের কার্যক্রম স্থগিত থাকায় পুরো জেলায় আওয়ামী লীগ অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন আগেভাগেই প্রতিটি আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ঘোষণার পর থেকেই দলীয় কর্মী-সমর্থকরা তাদের প্রার্থীদের নিয়ে মাঠে নেমেছেন এবং প্রতিটি এলাকায় সরগরম করে তুলেছেন।

চাঁদপুর-১ (কচুয়া) : আসনটি একটি উপজেলা, ১২টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। ২০ জুন সর্বশেষ হালনাগাদ করা ভোটার তালিকা অনুযায়ী এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫১ হাজার ৯৩৩ জন। জেলার সীমান্তবর্তী এ উপজেলার বেশিরভাগ রাজনৈতিক নেতা দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীকেন্দ্রিক রাজনীতিতে যুক্ত থাকায় সাধারণ মানুষের পক্ষে সাংসদের কাছে প্রত্যাশা বা সমস্যা তুলে ধরা অতীতে ছিল কঠিন বাস্তবতা।

এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও দলের কেন্দ্রীয় সাবেক আন্তর্জাতিক সম্পাদক আ ন ম এহসানুল হক মিলন। নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে আমি নির্বাচিত হয়ে কচুয়াবাসীর উন্নয়নে কাজ করেছি। মন্ত্রী হিসেবে এলাকার পাশাপাশি গোটা দেশের জন্য কাজ করেছি। পতিত হাসিনা সরকারের সময়ে বহু মামলা-হামলার শিকার হয়েও আমি এখন পর্যন্ত কচুয়ার জনগণের পাশে আছি এবং থাকব। আমি বিএনপির অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ধানের শীষের বিজয়ে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাই।

এ আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী মুহাদ্দিছ আবু নছর আশরাফী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ওমর ফারুক এককভাবে প্রচার চালাচ্ছেন। অন্যদিকে এনসিপি বা অন্যান্য দলীয় প্রার্থীদের তেমন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। জামায়াতপ্রার্থী আবু নছর বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ন্যায় ও ইনসাফ কায়েম করার জন্য কাজ করছে।

চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও দক্ষিণ) : এ আসনে ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ২২ হাজার ১০৭, এর মধ্যে হিজড়া ভোটার দুজন। এখানে বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থীরা ইতোমধ্যে প্রতিযোগিতামূলক প্রচার ও গণসংযোগ জোরদার করেছেন। এনসিপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কোনো কার্যকর প্রচার এখনও দেখা যায়নি। বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন। তিনি তার অনুসারীদের নিয়ে তুমুল প্রচারে ব্যস্ত। তিনি বলেন, ‘শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিক না, আমি সবসময় সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে আসছি। বর্তমানে দলের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছি।

এ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আব্দুল মুবিন এবং ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুফতি মানসুর আহমেদ সাকী নির্ঘুম প্রচারে আছেন। ডা. মুবিন বলেন, মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলায় আমি নিয়মিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছি। তাদের ইসলামি সমাজ প্রতিষ্ঠার ডাকে এগিয়ে আসার আহ্বান করছি।

চাঁদপুর-৩ (সদর ও হাইমচর) : এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর আমি দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে আন্দোলন সংগ্রামে ছিলাম। দল সেই বিবেচনায় আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। ইনশা আল্লাহ আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয়ই আমার নেতাকে উৎসর্গ করব।’ এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মো. শাহাজাহান মিয়া। তিনি প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দাড়িপাল্লায় ভোট চাইছেন। ইসলামী আন্দোলনের সাবেক

জেলা সভাপতি শেখ মো. জয়নাল আবেদীনও জোরালোভাবে গণসংযোগ চালাচ্ছেন। এ ছাড়া গণফোরামের প্রার্থী আইনজীবী সেলিম আকবর এবং গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী সাংবাদিক জাকির হোসেন প্রচারে নেমেছেন। এনসিপি প্রার্থী হিসেবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও জেলা প্রধান সমন্বয়কারী মো. মাহবুব আলম মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৮০ জন।

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) : এ আসনটি একসময় জাতীয় পার্টির দখলে ছিল। পরে বিএনপি শক্ত অবস্থান তৈরি করলেও গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নানা প্রভাব খাটিয়ে বিএনপিকে মাঠে দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৮৮৯ জন। এবার বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির রাজস্ব ও ব্যাংকিং বিষয়ক সম্পাদক এবং সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন মো. হারুনুর রশীদ। তাকে মনোনয়ন দেওয়ার পর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এমএ হান্নানের অনুসারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করলেও পরে কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এখন তিনি ও তার কর্মীরা জোরেশোরে গণসংযোগ করছেন এবং ধানের শীষের বিজয়ের জন্য ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চাইছেন। জামায়াতে ইসলামী থেকে জেলা আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মাওলানা মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজীকে একক প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচনী এলাকার লোকজনের কাছে দাড়িপাল্লার সমর্থন চাইছি। এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের একক প্রার্থী আল্লামা মকবুল হোসাইনও প্রচার শুরু করেছেন। পাশাপাশি এনসিপির মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী মো. শরীফুল ইসলাম।

চাঁদপুর-৫ (শাহরাস্তি-হাজীগঞ্জ) : এ আসনে টানা চারবার নির্বাচিত ছিলেন মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম। স্থানীয় বিএনপির ভেতরে অনৈক্য থাকলেও এবার দল থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক জেলা সভাপতি ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য প্রকৌশলী মমিনুল হক, যিনি বর্তমানে চিকিৎসার জন্য বিদেশে আছেন। তার অনুপস্থিতিতে অনুসারীরা গণসংযোগ শুরু করেছেন। এ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবুল হোসাইন সাংগঠনিক কাজ আগেও করতেন, এখনও করছেন।

ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আগে প্রচারে সক্রিয় না থাকলেও এখন মাঠে নেমেছেন। তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত হলে নির্বাচনী এলাকা পরিকল্পিত ও উন্নত নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে আমার প্রথম কাজ। সমাজের প্রতিনিধিত্বশীল সব মত ও পথের লোকদের নিয়ে সমন্বিতভাবে হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তির উন্নয়নে কাজ করব ইনশা আল্লাহ। এ ছাড়াও এনসিপি থেকে দলের যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মো. মাহবুব আলম মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এ আসনে মোট ভোটারসংখ্যা ৫ লাখ ১৯ হাজার ২৪৯।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram