

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের গৌরীপুরে রামগোপালপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করে গ্রামের একটি ভাঙা কাঁচা সড়ক চলাচল উপযোগী করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এই রাস্তা সংস্কার কাজ।
এলাকাবাসী জানায়, গৌরীপুর পৌর শহর থেকে রামগোপালপুর ইউনিয়নের ভিতর দিয়ে ময়মনসিংহ কিশোরগঞ্জ মহাসড়ক পর্যন্ত আঞ্চলিক সড়কটি স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সড়কটির রামগোপাপুর ইউনিয়নের মধ্যপাড়া এলাকায় প্রায় অর্ধকিলোমিটার অংশ এখনো কাঁচা। শুকনো মৌসুমে কোনারকম চলাচল করা গেলেও বর্ষাকালে জলকাদায় একাকার হয়ে যায় সড়কটি। এতে করে দুর্ভোগে পড়তে হয় গ্রামের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক, চাকরিজীবী সহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। বিশেষ করে গ্রামের কোন রোগী অসুস্থ হলে এই সড়ক দিয়ে রোগী বহন করা ছিলো এক মহাবিপদ; রোগীর অবস্থা আরো মুমূর্ষু হয়ে যেতো। তাই বেহাল ভাঙচোরা সড়কটি স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার করার উদ্যোগ নেন স্থানীয় বিএনপি।
মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিএনপির প্রায় অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী মাটি কেটে ভাঙাচোরা সড়কটি সংস্কার করছেন। তাদের কারো হাতে কোদাল, কারো হাতে টুকরি। কেউ জমি থেকে মাটি কাটছে, আবার টুকরি ভর্তি মাটি ভাঙা সড়কে ফেলে লাঠি ও ইট দিয়ে পিষে সেগুলো সমান করছেন। পরে তাদের দেখে সড়ক সংস্কার কাজে এসে যোগ দান করেন গ্রামের বাসিন্দারাও। সকলের সম্মিলিত চেষ্টায় সন্ধ্যার আগেই সড়কটি চলাচলের উপযোগী করে তোলা হয়। এদিকে সড়ক সংস্কার হওয়ায় গুজিখা, রামগোপালপুর, তেরোশিরা, গাওরামগোপালপুর, নওয়াগাও, কলতাপাড়া সহ প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষের চলাচলে স্বস্তি ফিরে আসে।
সাবেক ইউপি সদস খসরু পারভেজ রাজীব বলেন, এই সড়কটির দুই পাশে পাকা মাঝখানে অর্ধকিলোমিটার কাঁচা। আর কাঁচা অংশের ভাঙাচোরা ও বড় বড় গর্তের কারণে প্রায়ই এখানে গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা ঘটতো। আজকে বিএনপি নেতা-কর্মীরা সড়কটি সংস্কার করায় প্রায় ১৫ গ্রামের মানুষের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে।
উপজেল বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ বলেন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেইনের নির্দেশনায় উপজেলার বেহাল কাঁচা সড়কগুলো স্বেচ্ছাশ্রমে সংষ্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সেই ধরাবাহিকতায় আজকে রামগোপালপুর ইউনিয়নের অর্ধকিলোমিটার বেহাল সড়ক স্বেচ্ছাশ্রমে চলাচল উপযোগী করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারিভাবে সড়কটি দ্রুত পাকাকরণের দাবিও জানাচ্ছি।
উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আমিনুল ইসলাম বলেন, রামগোপালপুর ইউনিয়নে স্বেচ্ছাশ্রমে সংষ্কার করা কাঁচাসড়কটি খোঁজ নিয়ে সরকারি বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে পাকাকরণে উদ্যোগ নেয়া হবে।

