

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে ১জন নিহত ও উভয় পক্ষের কমপক্ষে কমপক্ষে ৬০জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এ সময় মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীর নারী সমাবেশের মঞ্চ, বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ৪০টি মোটরসাইকেল বেশ কয়েজন নেতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস ও বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রবিবার (৯ নভেম্বর) বিকেলে গৌরীপুর পৌর শহরের পাটবাজার এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষ শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, গৌরীপুর আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেন। তার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় জেলা উত্তর যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন পাপ্পুর কার্যালয় ও দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরসহ স্থানীয় চার ব্যক্তিকে আহত করে মনোনয়নবঞ্চিত আহমেদ তায়েবুর রহমান হিরনের সমর্থকরা। এ ঘটনায় উত্তেজনা অব্যাহত ছিল। খবর পেয়ে যৌথ বাহিনী চারজনকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করে।
এদিকে পূর্বনির্ধারিত সময়ে রবিবার বিকেলে দুই পক্ষই পৌর শহরের আলাদা স্থানে সভার আয়োজন করে। মনোনয়নপ্রাপ্ত ইকবাল পক্ষ গৌরীপুর সরকারি কলেজের হোস্টেল মাঠে ও মনোনয়ন বঞ্চিত হিরণ পক্ষ শহরের মধ্যবাজার ধান মহাল এলাকা সভার আয়োজন করে। এদিন বিকেল চারটা থেকে দুই সমাবেশেই নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই পক্ষই নিজ নিজ স্থানে মিছিল নিয়ে যাওয়ার পথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে একে অপরের ওপর হামলা, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।
ইকবাল পক্ষের নেতা হাবিবুল ইসলাম খান শহীদ রাতে সংবাদ সম্মেলনে জানান, শান্তিপূর্ণ মিছিল নিয়ে সমাবেশে যাওয়ার পথে হিরণের সমর্থকরা অতর্কিত হামলা চালায়। এমনকি মনোনয়নপ্রাপ্ত ইকবালের গাড়িবহরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। পরবতীতে তাদের হামলায় তানজির আহরমদ আবিদ(২৮) নামে একজন ছাত্রদলনেতা নিহত হয়। এ সময় রবিণ, জামাল, রাণাসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আলী আকবর আনিচের বাসা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রমজান হোসেন জুয়েলের অফিস, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাছুল হকের অফিস, উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নূরুজ্জামান সোহেলের অফিসে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নি সংযোগ করেছে। এসময় নেতাকর্মীদের ১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণ রাতে সংবাদ সম্মেলনে জানান, ইঞ্জিনিয়ার ইকবালের উপস্থিতিতে পেছনে থাকা নেতা কর্মীরা অস্ত্র নিয়ে মিছিল থেকেই মহিলা সমাবেশস্থলে প্রবেশ করে সমাবেশে নারীদের ওপর হামলা চালায়। এতে হিরণের স্ত্রী সাঈদা মাশরুর, পৌর বিএনপি নেতা মুকুলসহ কমপক্ষে ৫০ জন আহত হন। এ সময় মঞ্চ ভাঙচুর ছাড়াও নেতাকর্মীদের ৪০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গৌরীপুর সার্কেল) দেবাশীষ কর্মকার জানান, দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অনেকেই আহতের খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা। সন্ধ্যার পর থেকে শহরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ টহল দিচ্ছে।

