

পিন্টু দেবনাথ, কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার: প্রতি বছরের মতো এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের ৫৪তম শাহাদাৎবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে তার স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) উপজেলার কমলগঞ্জের মাধবপুর ইউনিয়নের ধলই সীমান্তে তার স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাখন চন্দ্র সূত্রধর জানান, স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি ধলাই সীমান্তে যাওয়ার সড়কের নাম বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান সড়ক করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর ভোর রাতে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের ধলই সীমান্তে পাকি (পাকিস্তানি) হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন তিনি।
প্রিয় মাতৃভূমির জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসাবে জাতি এই শহীদকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে সন্মানিত করেছে। কমলগঞ্জের ধলই সীমান্তে এ বীরের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধের সামনে এসে শ্রদ্ধাবনত হয়ে পড়েন যে কোনও দেশপ্রেমিক।
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খোরদা খালিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সিপাহী হামিদুর রহমান।
তৎকালীন সীমান্তরক্ষী ইপিআরের ক্যাম্পে শক্তিশালী পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর একটি আস্তায় গ্র্যানেড হামলা করে গুড়িয়ে দিয়েছিলেন বীরশ্রেষ্ঠী সিপাহী হামিদুর রহমান। সেখান থেকে ফেরার পথে সঙ্গে পাকবাহিনীর একটি দলের ছোড়া গুলিতে সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়, তার মধ্যে অন্যতম হামিদুর রহমান। মাত্র ১৮ বছর বয়সে শহীদ হওয়া হামিদুর রহমান ওই বীরশ্রেষ্ঠ সাতজনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ।
হামিদুর রহমান ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খোরদা খালিশপুর গ্রামে ১৯৫৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম আক্কাস আলী মণ্ডল এবং মায়ের নাম কায়মুন্নেসা।
সেনাবাহিনীর সিপাহী পদে ১৯৭০ সালে যোগ দেন হামিদুর রহমান। পরের বছরের অক্টোবরে হামিদুর রহমান ১ম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট সি কোম্পানির হয়ে ধলই সীমান্তের ফাঁড়ি দখল অভিযানে অংশ নেন। তার এ বীরত্বে অবশেষে ওই যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে পাকিস্তানি বাহিনী পরাজিত হয় এবং ধলই সীমান্ত ফাঁড়িসহ এ এলাকা দখল করে নেন মুক্তিযোদ্ধারা। তবে তার আগেই শহীদ হয়েছিলেন বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর।
তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কমলপুরের আমবাসা গ্রামে সীমান্তের কাছেই দাফন করা হয়। পরে ২০০৭ সালের ১০ ডিসেম্বর সেখান থেকে মরদেহ এনে ঢাকার মীরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
