

গুইমারা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার বড়পিলাক গ্রামের হিল ভিডিপি (গ্রাম প্রতিরক্ষা দল) সদস্যরা আগাম শিম চাষে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করে পাহাড়ে অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ড্যান্ট আরিফুর রহমানের সার্বিক দিকনির্দেশনা এবং উপজেলা প্রশিক্ষক আল আমিনের নিবিড় তদারকি ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের সহায়তায় ২৫ জন ভিডিপি সদস্য আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে ঋণ নিয়ে পতিত জমিতে আগাম জাতের শিম চাষ শুরু করেন।
শীতকালীন এই ফসল মৌসুমের শুরুতেই বাজারে তুলতে সক্ষম হওয়ায় তাঁরা পেয়েছেন বাড়তি দাম ও ভালো লাভ। এতে সহজেই ঋণ পরিশোধ করতে পারছেন তাঁরা, পাশাপাশি পরিবারে এসেছে আর্থিক সচ্ছলতা ও আত্মনির্ভরতা।
এই সাফল্যের পেছনে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা গোলাম হারুন, প্রশিক্ষক আল আমিন এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার যৌথ কারিগরি সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আধুনিক চাষপদ্ধতি, রোগ দমন ও ফলন বৃদ্ধির কৌশল কাজে লাগিয়ে ভিডিপি সদস্যরা পেয়েছেন উন্নতমানের ফলন।
আনসার ও ভিডিপি প্রশিক্ষক আল আমিন বলেন, “ভিডিপি সদস্যদের আয় বৃদ্ধি ও পতিত জমির ব্যবহার নিশ্চিত করতে আমরা আগাম সবজি চাষের উদ্যোগ নিই। এতে জেলা কমান্ড্যান্ট, আনসার ভিডিপি ব্যাংক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সহযোগিতা করেছেন।”
হিল ভিডিপি সদস্য বেলাল হোসেন জানান, “আল আমিন স্যারের সহযোগিতায় ভিডিপি ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে শিম চাষ শুরু করি। এখন বছরে তিন-চার লাখ টাকা আয় হচ্ছে—আমাদের ভাগ্য বদলে গেছে।”
সহকারী প্লাটুন লিডার মহিউদ্দিন বলেন, “আমরা ভিডিপি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে চাষ করছি। যদি ঋণের পরিমাণ এক লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়, তাহলে আমরা আরও বড় পরিসরে উৎপাদন করতে পারব।”
বর্তমানে গুইমারায় উৎপাদিত শিম স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হচ্ছে। উপজেলায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন ভিডিপি সদস্য ইতোমধ্যে শিম চাষে লাভবান হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিডিপি সদস্যদের এই সাফল্য প্রমাণ করে—প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা, আধুনিক প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পিত উদ্যোগ থাকলে পাহাড়ি অঞ্চলেও গ্রামীণ জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর হতে পারে। গুইমারার এই উদ্যোগ এখন দেশের অন্যান্য অঞ্চলের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
