ঢাকা
logo
প্রকাশিত : October 21, 2025

মাছের আড়তের শ্রমিক বাবার ছেলে এখন ম্যাজিস্ট্রেট, গর্বে ভাসছে পুঠিয়া

মো. মেহেদী হাসান, পুঠিয়া: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার গাঁওপাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তার পেশায় একজন মাছের আড়ৎ শ্রমিক। অন্যের মাছ বাজারজাতকরণে কাজ করে। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিবারের হাল ধরেছেন তিনি। আর সেই শ্রমের সফলতায় ছেলে মোঃ শাহরিয়ার হোসেন এখন একজন গর্বিত বিসিএস ক্যাডার।

মাছের আড়তের শ্রমিক আব্দুস সাত্তারের ছেলে মোঃ শাহরিয়ার হোসেন ৪৩তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দেশের গর্ব হয়ে উঠেছেন। ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে এলাকায় আনন্দের জোয়ার বইয়ে দিয়েছেন। ৪৩তম বিসিএসে সারা বাংলাদেশে ২৩২তম স্থান অর্জন করে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। বর্তমানে তিনি নড়াইল জেলায় সহকারী কমিশনার হিসেবে কর্মরত। বর্তমানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের জন্য ঢাকার সাভারে অবস্থান করছেন তিনি। তার এই অর্জনের পেছনে লুকিয়ে আছে এক সংগ্রামী বাবার অব্যাহত পরিশ্রম ও পরিবারের ত্যাগ।

অভাব-অনটনের মাঝেও পিতা আব্দুস সাত্তার রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে অন্যের মাছ বাজারজাতকরণের কাজ করে ছেলেকে গড়ে তুলেছেন। শাহরিয়ার সারা বাংলাদেশে ২৩২তম স্থান অর্জন করে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। তার এই অর্জনে গাঁওপাড়াসহ পুরো এলাকায় বইছে আনন্দের বন্যা। শিক্ষক, প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার সাফল্যে গর্বিত ও আশাবাদী।

শাহরিয়ারের বাবা আব্দুস সাত্তার জানায়, “আমি ৩৫ বছর ধরে পুঠিয়ার আমিনুল ইসলাম মন্ডলের মাছের আড়তে খেটে খেটে আমার ছেলেকে পড়াশোনা করিয়েছি। রোদে পুড়েছি, বৃষ্টিতে ভিজে কাজ করেছি, যেন ছেলেটা মানুষ হয়। আমি খুব কষ্ট করে ছেলেকে বড় করেছি। আজ সে ম্যাজিস্ট্রেট হয়েছে, আমি চাই সে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করুক।”

তার মা ফেরদৌস আরা বেগম বলেন, “আমার ছেলে ম্যাজিস্ট্রেট হয়েছে, আমরা খুব খুশি। সামান্য সামান্য করে টাকা দিয়ে তার পড়ালেখা চালিয়েছি। ছেলেকে পড়াতে গিয়ে প্রতিমাসে ১-২ হাজার টাকা করেও পাঠিয়েছি। অনেক কষ্ট করেছি। আজ সে সফল, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি। আপনারা সবাই আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন।”

এ বিষয়ে গাঁওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রুবাইয়া সুলতানা বলেন, একজন ছাত্র সফলতা অর্জন করলে শিক্ষক সমাজের কি যে আনন্দ হয় তা আর বোঝানোর ভাষা থাকে না। শাহরিয়ার ম্যাজিস্ট্রেট হয়েছে এই কথা শুনে অনেক আনন্দিত হয়েছি, আবেগাপ্লুত হয়েছি। দোয়া করি সে যেন আরো সফলতা অর্জন করে।

এ বিষয়ে শাহরিয়ারের শিক্ষিকা আঞ্জুমান আরা তিনি বলেন, পরের বাচ্চাদেরকে পড়াশুনা করে তারা সফলতা অর্জন করলে, শিক্ষক হিসেবে আমাদের খুবই ভালো লাগে। ছাত্রদের সফলতা আমাদের শিক্ষকতার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। শাহরিয়ারের জন্য অনেক দোয়া রইল। শাহরিয়ারের এই সাফল্যে শুধু পরিবার নয়, পুরো গ্রাম আজ গর্বিত। তাঁর মত একজন কর্মঠ, মেধাবী ও মানবিক ম্যাজিস্ট্রেট দেশ ও জাতির জন্য এক আশার আলো। দোয়া করি সে যেন আরো অনেক বড় কিছু হয়।

শাহরিয়ার জানান, “এই অর্জন আমার বাবার কঠোর পরিশ্রম ও আমার শিক্ষকদের দোয়ার ফল। আমি চাই দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করতে।”

শাহরিয়ারের এই সাফল্যে গর্বিত তার শিক্ষক, এলাকাবাসী ও পরিবার। নিজ এলাকাকে সম্মানিত করার পাশাপাশি, তিনি দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। এ যেন এক সংগ্রামী পিতার পরিশ্রম আর এক শিক্ষানবিশ সন্তানের অধ্যবসায়ের জয়গাথা। একটি সাধারণ পরিবারের অসাধারণ সাফল্যের গল্প এখন পুরো পুঠিয়ার গর্ব। এই অনুপ্রেরণামূলক গল্প প্রমাণ কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় আর পারিবারিক ত্যাগই পারে অসম্ভবকে সম্ভব করতে।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram