

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের চিলমারী সরকারি কলেজের প্রশাসনিক ভবনের দোতলার একটি কক্ষের পর্দা সরালেই চোখে পড়ে একটি থাকার ঘর। এটি চিলমারী সরকারি কলেজের প্রশাসনিক ভবনের কক্ষ। সরকারি নির্দেশনা ও প্রশাসনিক নীতিমালা উপেক্ষা করে ৩৫ শতাংশ বাড়িভাড়া উত্তোলন করেও অধ্যক্ষ কলেজ কক্ষকেই নিজের বসবাসের স্থানে পরিণত করেছেন। ওই অধ্যক্ষকের নাম প্রফেসর ড. মো. মজিবল হায়দার চৌধুরী।
জানা গেছে, চিলমারীতে অবস্থিত নব্য জাতীয়করণকৃত চিলমারী সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ পদায়ন করা হয় চলতি বছরের এপ্রিল মাসে। সে মোতাবেক কলেজটিতে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন প্রফেসর ড. মো. মজিবল হায়দার চৌধুরী। বেতনের সাথে ৩৫ শতাংশ বাড়িভাড়া উত্তোলন করলেও যোগদানের পর থেকেই প্রশাসনিক ভবনে পরীক্ষার নিয়ন্ত্রণ কক্ষে আবাসিক হিসাবে অবস্থান করছেন তিনি। সেখানেই তিনি কলেজের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে তিন বেলা রান্না করে খান।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি সপ্তাহের বুধবার রাতে তার নিজ বাড়িতে চলে যান এবং আসেন রবিবার সকালে। বর্তমানে তিনি নিজ খেয়াল খুশি মত কলেজের কয়েকটি শ্রেণিকক্ষের দেয়াল ভেঙে কক্ষের দীর্ঘ বাড়তি করেছেন।
কলেজটিতে গিয়ে দেখা গেছে, প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বিছানা, আসবাবপত্র রয়েছে। এসময় কলেজের কয়েকটি ক্লাস রুমের তালা খুলে চোখে পড়ে দেয়াল ভাঙার দৃশ্য। এসময় কলেজের একাধিক শিক্ষক ও কর্মচারী জানান, অধ্যক্ষ কলেজে যোগদানের পর থেকেই প্রশাসনিক ভবনে পরীক্ষার নিয়ন্ত্রণ কক্ষে অবস্থান করছেন। এতে বিভিন্ন পরীক্ষার সময় ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের।
শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রভাষক এ কে এম গোলাম ফারুক বলেন, আমি শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক, কলেজ কক্ষের দেয়াল ভাঙার বিষয়ে আমি অবগত নই। আমাকে জোরপূর্বক ভয়ভীতি দেখিয়ে রেজুলেশন লেখানো হয়েছে। অধ্যক্ষ মহোদয় আমাকে বলেছেন আপনার অবসরের কাগজপত্র কিন্ত আমাকেই স্বাক্ষর করতে হবে মর্মে আমাকে হুমকির মুখে রাখছেন।
শিক্ষক পরিষদের কোষাধ্যক্ষ প্রভাষক জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, দেয়াল গুলো ভেঙে যে রুম গুলো বড় করা হয়েছে, এতে একাডেমি কাউন্সিলের অনুমতি দরকার কিন্তু সেই অনুমতি নেয়নি। না নিয়ে উপস্থিতির স্বাক্ষরে রেজুলেশন লিখে দেখানো হয়েছে। আসলে দেয়াল ভাঙার বিষয়ে আমাদের কোনো মিটিংয়েই হয় নাই।
প্রভাষক এটিএম আতিকুর রহমান জানান, কলেজে রাত্রি যাপন করার কোন আইন নাই, যেহেতু আমাদের নিজস্ব কোন আবাসিক ভবন নাই। তাছাড়া সরকার প্রতিমাসে বাড়ি ভাড়া বাবদ মূল বেতনের ৩৫ শতাংশ দিচ্ছেন। অধ্যক্ষ স্যার যে রুমে অবস্থান করছেন সেটি পরীক্ষার সময় কন্ট্রোল রুম হিসাবে ব্যবহার করা হয়। তিনি রুমে অবস্থান করায় পরীক্ষার সময় আমাদের নানান জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।
কলেজের নৈশ প্রহরী লালমিয়া জানান, স্যার উপরে একটা রুমে থাকেন। তিনি বুধবার রাতে বাড়িতে যান আর রবিবার সকালে এসে কলেজ করেন। আগে তো রুমেই রান্না করে খেতেন। এখন আমি আমার বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে আসি।
চিলমারী সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. মজিবল হায়দার চৌধুরী ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে কলেজের স্বার্থে তিনি একটি কক্ষে অনেক কষ্ট করে থাকেন। বাকী অভিযোগ গুলো তিনি অস্বীকার করেছেন। ছুটির দরখাস্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে শুধু ডিজি মহোদয় প্রশ্ন করার অধিকার রাখেন।

