

জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুদীপ্ত কুমার সিংহকে শরণখোলা থেকে সরিয়ে হরিণাকুন্ডু উপজেলায় বদলি করা হয়েছে।
সম্প্রতি সিনিয়র সহকারী কমিশনার সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। বদলির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উপজেলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের মে মাসে শরণখোলায় যোগদানের পর থেকে সুদীপ্ত কুমার সিংহ বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন—আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবায়ন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পক্ষে অবস্থান নেওয়া, অফিসে শেখ হাসিনার লেখা বইপত্র সংরক্ষণ করা, সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা করা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ স্থানীয়রা তৎপর সময় থেকেই তুলে ধরেছেন। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে শরণখোলার বাসিন্দারা একাধিকবার মানববন্ধনও করেছেন।
সূত্র বলছে, এর আগেও বরিশালের হিজলা উপজেলায় একই ধরনের ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি পানিশমেন্টের শিকার হয়েছিলেন।
বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ তার কর্মকাণ্ড নিয়ে আলাদা—আলাদাভাবে তদন্ত করছে। যদিও কিছু স্থানীয় তরুণ একটি প্রতিনিধি দল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে জানান— বিভাগীয় স্তরে সুষ্ঠু তদন্ত হবে কি না তা নিয়ে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
উপজেলার একটি প্রতিনিধি দলের জুলাইযোদ্ধা মো. রোমানুল ইসলাম বলেন, আমি জুলাইয়ে চোখ হারিয়েছি; যারা এর দায়ীদের বিচার করেনি তাদের জন্য এটা অনেক কষ্টের। শুধু বদলি করলেই চলবে না, তাকে চাকরিচ্যুত করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, খুলনায় প্রশাসনের একটি সম্ভাব্য সিন্ডিকেট ও কিছু অবৈধ সুবিধাভোগী রাজনৈতিক ব্যক্তির কারণে বিচার বিলম্বিত হচ্ছে; আমরা থামবো না—সমাধান না হলে ঢাকায় বৃহৎ আন্দোলন করবো।
একজন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত নিয়ামতুল্লাহ বলেন, আমাদের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আমরা উপজেলাকে কলঙ্কমুক্ত করার দিকে এগিয়েছি; এজন্য আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ। সুন্দরবনবেষ্টিত আমাদের অঞ্চল হলেও এখানে কিছু শাস্তিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পাঠানো হয় এবং তারা এসে দুর্নীতি শুরু করে—এমন কর্মকাণ্ড আমরা বরদাস্ত করব না।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সাব্বির বলেন, আমার পরিবার ইউএনও’র চাঁদাবাজির শিকার হয়েছে। নতুন যে ইউএনও আসবেন তাকে আমরা সহযোগিতা করবো— কারণ একজন কর্মকর্তা পুরো প্রশাসন নয়; আমাদের দেশে অনেক ভালো কর্মকর্তা আছেন।
আরেক ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম দাবি করেন, বৈধভাবে ব্যবসা করার পরও প্রায় ১০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির শিকার হয়েছি; আর্থিক কষ্টে দিনযাপন করতে হয়েছে। আমরা সরকারের কাছে চাই—একজন সরকারি কর্মকর্তার চাঁদাবাজির কারণে যেন ব্যবসায়ীরা নিঃস্ব না হন।
উল্লেখ্য, প্রশাসন বদলির বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত তদন্ত ও আগামী কার্যক্রম সম্পর্কে জেলা ও বিভাগীয় কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তীতে জানতে চাইলে তা জানানাে হবে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
