

কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: নদীর তীরবর্তী স্থান থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙন ঝুঁকিতে পড়েছে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার মল্লিকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আজ রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিন কুড়ি বছর বয়সী মল্লিকপাড়া চরে গিয়ে দেখা গেছে, নদী থেকে ওই বিদ্যালয়টি মাত্র কয়েক মিটার দূরে রয়েছে। স্কুল সংলগ্ন স্থানে ভাঙনের যে পরিস্থিতি তাতে করে যেকোন সময় টিনশেড স্কুল ভবনটি নদীগর্ভে চলে যেতে পারে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। কয়েকদিন পূর্বেই সেখানকার কমিউনিটি ক্লিনিকটিও ভাঙন ঝুঁকি এড়াতে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার মাইজবাড়ী ইউনিয়নের যমুনা নদীর চরাঞ্চলের মল্লিকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এর পূর্বেও বেশ কয়েকবার ভাঙনের কবলে পড়েছে। এবারও সেখানে ভাঙ্গনের হুমকিতে গ্রাম ছেড়ে গত কয়েকদিনে একশ পরিবার অন্যত্র চলে গেছে।
এসময় স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন জানান, নদী থেকে দিনেরাতে এক নাগাড়ে ড্রেজার বসিয়ে বালু তুলছে এক শ্রেণির মানুষ। নিয়ম না মেনে অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলার কারণেই ঘর-বাড়িসহ ওই বিদ্যালয়টি ভাঙনের কবলে পড়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই গ্রামের এক ব্যবসায়ী জানান, আগে কেউ এভাবে নিয়ম না মেনে বালু তোলে নাই। এখন অবস্থা এমন হয়েছে যে, নিষেধ করারও কেউ সাহস পায় না। সবাই ভয়ে থাকি, প্রশাসনও কিছু দেখে না আর।
ওই চরের আরেক বাসিন্দা সাহেব আলী (৫৫) বলেন, গত ২ বছরে ৭ বার বাড়ী ভেঙেছে। তীরবর্তী স্থান থেকে বালু তোলার ফলে এখন তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। একই গ্রামের বাসিন্দা আশরাফ আলী (৫২) জানান, প্রায় ২০ বছর আগে এই চর জেগে ওঠে, এখানে মল্লিকপাড়া শ্রীপুর ও বদুয়ার পাড়া গ্রামের প্রায় ৪ শতাধিক বাসিন্দা বসতি গড়ে তোলে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য স্বপন মিয়া বলেন, নদী ভাঙ্গনের ফলে মল্লিকপাড়া চরের অনেক বসতি অন্যত্র চলে গেছে। কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি শাহাদাত বলেন, নদী ভাঙ্গনে ক্লিনিকের অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছে, অস্থায়ী স্থান থেকে স্বাস্থ্য সেবা দেয়া হচ্ছে।
ভাঙ্গন কবলিত ৪০ নং মল্লিকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাজমুন নাহার বলেন, বিদ্যালয়ের সন্নিকটে নদী ঝুঁকিপূর্ণভাবে ভাঙ্গছে, যে কোনো সময় বিদ্যালয় বিলীন হয়ে যেতে পারে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে দুটি টিনের ঘর নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
কাজিপুর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে সার্বিক পরিস্থিতি জানিয়ে জরুরি ভিত্তিতে ফান্ড চাওয়া হয়েছে।
অবৈধ বালু উত্তোলন বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈমা জাহান সুমাইয়া বলেন, বিদ্যালয় স্থানান্তরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে। আর ইজারা বহির্ভূত স্থান থেকে বালু উত্তোলন করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
