

সাজ্জাদুল তুহিন, মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দায় এক বছরের বেশি সময় ধরে স্কুলে অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর ও বেতন উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে পরানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও পরানপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং পরানপুর ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান উজ্জ্বলের বিরুদ্ধে। পলাতক থেকে স্কুল না করে কিভাবে স্কুলের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করলেন তিনি এমন অভিযোগ উঠেছে। অনিয়ম করে স্বাক্ষর ও সরকারি বেতন উত্তোলনের মতন এমন অবৈধ কাজে সহায়তা করেছে ওই প্রতিষ্ঠানের আলোচিত প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদ। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর উপজেলা জুড়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা।
অভিযোগ যাচাই করতে গত মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে পরানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে গেলে জানা গেছে, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে পলাতক রয়েছেন শিক্ষক মাহফুজুর রহমান উজ্জ্বল। আর দশজন শিক্ষকের মতন হাজিরা খাতায় রয়েছে তার স্বাক্ষর। স্কুলে না এসে নিয়মিত বেতন উত্তোলন করেন তিনি। হাজিরা খাতায় কোন কোন মাসে মেডিকেল ছুটির কথা উল্লেখ রয়েছে। আবার পরের মাস জুড়ে রয়েছে উপস্থিতির স্বাক্ষর। অথচ একটি দিনের জন্য স্কুলে আসেননি তিনি বলে জানা যায়।
না প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা বলেন, সহকারী শিক্ষক মাহফুজুর রহমান উজ্জ্বল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান হওয়ার সুবাদে এলাকায় রয়েছে তার পেটুয়া বাহিনী। ভয়ে তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস করেনি। নির্যাতন, জমি দখল, বিচার বাণিজ্যে সবই হয়েছে তার রায়ে। এলাকাতে তার কথায় শেষ কথা। গত বছর সরকার পরিবর্তনের পর থেকে স্কুলে আসেননি উজ্জ্বল। হারিয়েছেন চেয়ারম্যান পদ। এরপর থেকে আর এলাকাতে নেই তিনি। স্কুলে না এসে হাজিরা খাতাতে কিভাবে স্বাক্ষর করে বেতন উত্তোলন করেছে এর সুষ্ঠ তদন্ত হওয়া দরকার। স্থানীয় আরেক দোকানদার বলেন, বছর হয়ে গেল চেয়ারম্যান উজ্জ্বলকে কখনো স্কুলে আসতে দেখিনি। নিয়মিত স্কুল করছেন শুনে আমি হতবাক।
পরানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোতাসন বিল্লাহ বুলু, জিয়াউর রহমান ও আব্দুর রহমান বলেন, মাহফুজুর রহমান উজ্জ্বল গত সাড়ে ১৩ মাস থেকে স্কুলে আসেনি। উজ্জ্বল স্কুলে না আসলেও প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদের সহযোগিতায় হাজিরা খাতা তার কাছে নিয়ে গিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে আনেন। স্কুল প্রধান আব্দুল ওয়াহেদ আর্থিক সুবিধা নিয়ে এই অনিয়ম করে চলেছেন। আওয়ামীলীগ সরকারের সময় উজ্জ্বল ও প্রধান শিক্ষক মিলে বিভিন্ন অনিয়ম করেছে। তার প্রতিবাদ করলেই পেতে হয়েছে শাস্তি।
পলাতক থাকায় পরানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহফুজুর রহমান উজ্জ্বলের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
পরানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, মাহফুজুর রহমান উজ্জ্বল স্কুলে না থাকলেও তার বেতন ভাতা চালু রয়েছে। তার বদলে স্কুলে একজন প্রক্সি শিক্ষক রাখা হয়েছে। কোনদিন স্কুলে না এসে হাজিরা খাতাতে কিভাবে তিনি স্বাক্ষর করেন তার কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেননি তিনি। শিক্ষক মাহফুজুর রহমান উজ্জ্বলের বেতন উত্তোলন করে সেখান থেকে কোন টাকা তিনি নেননা বলে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ আলম সেখ বলেন, স্কুলে না এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার কোন সুযোগ নেই। প্রক্সি শিক্ষক রেখে অনুপস্থিত থাকা শিক্ষককে দিয়ে স্বাক্ষর করানো যাবেনা। প্রধান শিক্ষক এমন কাজ কেন করেছেন এ বিষয়টি আমার জানা নেই। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

