

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার অলিপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদ্বোধন হয়েছে হাইওয়ে ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ক্যাম্প। রোববার দুপুরে ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের ডিআইজি (ইন্টেলিজেন্স) হারুন-উর-রশিদ হাজারী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ক্যাম্প যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। শ্রমিক, মালিক ও সাধারণ মানুষের জানমাল নিরাপত্তায় পুলিশ সবসময় সজাগ রয়েছে। অপরাধী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি (অপারেশন্স-পূর্ব) হাবিবুর রহমান খান। তিনি বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জ অংশে যানজট ও দুর্ঘটনা দুর্ভোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের কার্যক্রম আরও জোরদার হলে এই সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে। যানজট নিরসন ও সড়কের নিরাপত্তার স্বার্থে এ ক্যাম্পের কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন্স-পূর্ব) মীর মোদ্দাছ্ছের হোসেন, হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান, হাইওয়ে পুলিশ সিলেট রিজিয়নের পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম, হাইওয়ে থানার ওসি শুভ রঞ্জন চাকমা, শায়েস্তাগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি মঈনুল হাসান রতন, সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান, উপজেলা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মিজানুর রহমান সুমন, স্থানীয় শিল্প কারখানার কর্মকর্তা, পরিবহন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক ও সামাজিক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানের সভাপতি হাইওয়ে পুলিশ সিলেট রিজিয়নের পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম বক্তব্যে বলেন, অলিপুরে প্রতিদিন লাখো শ্রমিক ও হাজারো যানবাহনের চাপ সৃষ্টি হয়। এখানে দখলদারিত্ব, ছিনতাই, দুর্ঘটনা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ছিল নিত্যদিনের সমস্যা। মাত্র ৩৬ দিনে স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী ও পরিবহন মালিকদের সহযোগিতায় আমরা দৃষ্টিনন্দন এ স্থাপনা গড়ে তুলতে পেরেছি। আজ থেকে হাইওয়ে ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের যৌথ কার্যক্রম চালুর মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
তিনি বলেন, হাইওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. দেলোয়ার হোসেন মিয়া ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি গাজী জসীম উদ্দীনের সার্বিক সহযোগিতায় এই ক্যাম্পের কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়েছে।
উল্লেখ্য, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অলিপুর এলাকায় প্রাণ-আরএফএল, স্কয়ার ডেনিম, বাদশা গ্রুপ, স্টার সিরামিকস, আকিজ গ্রুপ, বিএইচএল, যমুনা গ্রুপসহ প্রায় দশটি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিক প্রতিদিন আসা-যাওয়া করেন। কেবল প্রাণ-আরএফএলেই কর্মরত আছেন প্রায় ২৬ হাজার শ্রমিক। ফলে যানজট, দুর্ঘটনা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব দীর্ঘদিন ধরেই এ অঞ্চলের বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এ অবস্থায় পুলিশের ক্যাম্প চালু হওয়ায় জনমনে স্বস্তি ফিরেছে।
