

চিলমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ত্রাণের ঢেউটিন ও নগদ অর্থের চেক বিতরণে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।অসহায় দুস্থদের জন্য ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বরাদ্দের তালিকায় বিত্তবান ও প্রভাবশালীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তরে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অসহায়-দুস্থদের জন্য ১১৬ বান্ডেল ঢেউটিন ও প্রতি বান্ডেল টিনের বিপরীতে নগদ তিন হাজার টাকা হিসাবে বরাদ্দ আসে। উপজেলার ছয় ইউনিয়নের দুস্থদের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে জনপ্রতি দুই বান্ডেল করে ঢেউটিন ও নগদ ৬হাজার টাকা প্রদানের জন্য যাচাই-বাছাই করে ৫৮জনকে মনোনয়ন করা হয়। ত্রাণের ওই টিন ও নগদ অর্থের চেক বিতরণের তালিকায় বিত্তবান ও প্রভাবশালীদের নাম দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তর থেকে পাওয়া তালিকায় দেখা যায়, তালিকায় ৩৬নম্বরে থাকা রমনা ইউনিয়নের আসাদুল ইসলাম একজন বিত্তবান মানুষ। উপজেলার থানাহাটবাজারে তিনতলা ভবনসহ তার অনেক সম্পত্তি রয়েছে। ৪১নং ক্রমিকে থাকা রিয়াজুল হক জোরদার চিলমারী ইউনিয়ন বিএনপি'র বর্তমান সভাপতি। ৪৮নং ক্রমিকে নাম থাকা দেনার আলীও একজন বিত্তবান ব্যক্তি।
সরেজমিনে শুক্রবার উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে দেখা যায়,উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায় দপ্তরের উদ্যোগে এসব ঢেউটিন ও নগদ অর্থের চেক বিতরণ করা হলেও সেখানে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার কিংবা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে দেখা যায়নি। সেখানে ত্রাণের জন্য মনোনীত ব্যক্তিদের চেয়েও দুস্থ অনেককে ত্রাণের ঢেউটিন না পেয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে।
চিলমারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রিয়াজুল হক জোদ্দার বলেন, আমি ব্যক্তিগত ভাবে টিনের আবেদন করি নাই। আমাদের একটি মসজিদের জন্য টিন চেয়েছিলাম। তদন্ত কমিটি আমাদের মসজিদ তদন্ত করে গেছেন, কি নামে টিন দিবে সেটি আমার জানা নেই।
চিলমারী ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, উপজেলা থেকে যাচাই-বাছাই করে পাঁচটি নাম কনফার্ম রেখে বাকি নয়টি নামের মধ্য থেকে আমার নিকট হতে চারটি নাম চাওয়া হয়েছিল আমি তাই দিয়েছি।
রমনা ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম আশেক আঁকা বলেন, তদন্ত করে নাম পাঠানোর পর আমাদের করার কিছু থাকে না। তিনি আরও বলেন,অভিযুক্ত আসাদুল ইসলামকে দেয়া টিন ফেরত দিতে বলেছি।
এবিষয়ে চিলমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সোহেল রহমানকে ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক বলেন,সুবিধাভোগীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে তদন্ত টিম গঠন করে আবেদনকারীদের সকলের তথ্য তদন্তপূর্বক ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের কাছে পাঠিয়েছি,প্রাপ্যতার ভিত্তিতে তারা আমাদের নিকট তালিকা পাঠিয়েছে। সে মোতাবেক টিন বিতরণ করা হয়। কোন অভিযোগ থাকলে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
