

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের চিলমারীতে এক মাদ্রাসার নামে জিআরের চাল বরাদ্দ থেকে চাঁদা দাবীর অভিযোগ উঠেছে এক কথিত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। উপজেলার পাত্রখাতা দারুল এখলাছ নূরানী ও হাফেজী মাদ্রাসার নামে বরাদ্দকৃত জিআর থেকে এ চাঁদা দাবী করেন কুড়িগ্রামের কথিত সাংবাদিক আমিনুর রহমান। ওই মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ মোঃ ওমর ফারুক মেসবাহ এ বিষয়ে গতকাল বুধবার চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার পাত্রখাতা দারুল ইখলাছ নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাদ্রাসা সংস্কারের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসারের দপ্তরে জিআরের চাল বরাদ্দের জন্য একটি আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে পাত্রখাতা দারুল ইখলাছ নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসায় এক টনসহ উপজেলার মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থান মিলে মোট ১৩টি প্রতিষ্ঠানের স্বপক্ষে ১৩ মে.টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। গত ৩০ জুনের আগে স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠান চাল উত্তোলন করে মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবর স্থানের মেরামতের কাজ সম্পন্ন করেছে। কাজ সমাপ্তির ১ মাস পর হঠাৎ কুড়িগ্রাম জেলা প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি মোঃ আমিনুর রহমান নিজ পরিচয়ে ০১৭১৯২৫৭৩৪১ মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে বরাদ্দকৃত জিআর চাউলের উত্তোলনকৃত অর্থ থেকে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করেন। এসময় আমিনুর বলেন বরাদ্দ পাশ করতে গিয়ে ওনার নাকি ডিসি, এসপি, ইউএনও সহ বিভিন্ন দফতরে টাকা দিতে হয়েছে।
এক পর্যায়ে মুহতামিম মোঃ ওমর ফারুক মেসবাহ দাবীকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কথিত সাংবাদিক পরিচয় দেয়া আমিনুর তাকে প্রাণনাশের হুমকিসহ মাদ্রাসা উচ্ছেদ করার হুমকি দেয়। এজন্য তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে তার নিজের এবং পরিবারের জন্য নিরাপত্তা চেয়েছেন।
পাত্রখাতা দারুল ইখলাছ নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ মোঃ ওমর ফারুক মেসবাহ জানান, আমার মাদ্রাসা মেরামতের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসারের দপ্তর থেকে ১ মে. টন চাল বরাদ্দ পেয়েছিলাম যা গত ৩০ জুনের মধ্যে উত্তোলন করে মাদ্রাসার কাজ সমাপ্ত করেছি। হঠাৎ গত ২৮ জুলাই জেলা প্রেসক্লাবের সম্পাদক আমিনুর রহমান ফোন করে আমার নিকট ৩০ হাজার টাকা চাঁদ দাবি করেন। আমি তাকে চিনি না, কখনো দেখিনি। কথা হওয়ার পর রাতে তিনি কুড়িগ্রামের অজ্ঞাত পরিচয় দুই ব্যক্তিকে আমার বাড়িতে টাকা নিতে পাঠিয়েছিলেন। নিজের এবং আমার পরিবারের নিরাপত্তার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট আবেদন করেছি।
অভিযুক্ত সাংবাদিক আমিনুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক জানান, অভিযোগ জমা হয়েছে শুনেছি, তবে এখনো আমার হাতে আসেনি।
