

মো: মোকাররম হোসাইন, কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় চলতি রোপা আমন মৌসুমে আষাঢ়-শ্রাবণের স্বস্তির বৃষ্টিতে পুরোদমে রোপা আমন ধান চাষে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে কৃষকরা। কখনও রোদ আবার কখনও বৃষ্টিকে উপক্ষো করে রোপা আমন ধানের চারা রোপণ ও জমিতে চাষ, আগাছা পরিষ্কার, পানি দেওয়া, সার দেওয়াসহ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।
সরেজমিনে মাঠে গিয়ে দেখা যায়, এ উপজেলার কৃষকেরা তাদের জমিতে আমন ধানের চারা লাগানো নিয়ে সকাল-সন্ধ্যা চরম ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। কৃষকেরা ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার দিয়ে হাল চাষ করছেন, কেউ জমির আইলে কোদাল দিয়ে কোপাচ্ছেন। কোথাও কোথাও জমি সমান করার জন্য পাওয়ার টিলার দিয়ে চলছে মইয়ের কাজ। কোনো কোনো স্থানে পাওয়ার টিলার ছাড়াও কৃষকেরা নিজেই মই টেনে জমি সমান করার দৃশ্য দেখা গেছে। আবার কোথাও আমন ধান রোপণের জন্য বীজতলা থেকে তোলা হচ্ছে ধানের চারা। কেউ আবার জৈব সার জমিতে দিতে ব্যস্ত হয়ে পরেছেন। আবার অনেকেই কাজের ফাঁকে ফাঁকে টানছেন বিড়ি। সব কিছু মিলিয়ে যেন আনন্দে বইছে কৃষকের প্রাণে।
স্থানীয় কয়েকজন কৃষকরা বলেন, বর্ষায় সেচবিহীন কম খরছে আমন ধান চাষ করে লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। সময়মতো বৃষ্টির হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে জমিতে রোপা আমন রোপণ শুরু করে দিয়েছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি রোপা আমন মৌসুমে পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার এলাকাসহ এ উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১১ হাজার ৯ শত ৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবং প্রণোদনা হিসেবে ২ হাজার ১৫০ জন কৃষককে রাসায়নিক সার ও বীজ দেওয়া হয়েছে। জনপ্রতি কৃষককে ৫ কেজি করে আমন ধানের উফশী বীজ ও ২০ কেজি করে সার দেওয়া হয়েছে।
এ উপজেলার জিন্দাপুর ইউনিয়নে মহেশপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল আলিম চৌধুরী বলেন, চলতি মৌসুমে তিনি ১ একর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান চাষাবাদ করবেন। আল্লাহর রহমতে সময়মতো বৃষ্টি হওয়াতে ধান লাগাতে পেরে দারুণ খুশি তিনি।
পুনট ইউনিয়নে মাদাই গ্রামের কৃষক আব্দুল হান্নান মাষ্টার বলেন, বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভর করে আমরা আমন চাষ করে থাকি। অনেক দিন পর এই বৃষ্টির নাগাল পেয়েছি। আমার চার বিঘা জমিতে বৃষ্টির পানি জমেছে। আমন ধান চারা রোপণের উপযোগী করে জমি চাষ শেষে চারা রোপণের কাজ করছি। আশা করছি, এ বছর লাভের মুখ দেখতে পারব।
এ উপজেলার আরেক কৃষক আমিরুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে চার বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন তিনি। পর্যাপ্ত বৃষ্টির পানি পাওয়ায় চাষাবাদে কোনো অসুবিধা হয়নি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ফলনও বেশ ভালো হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কালাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুন রশীদ বলেন, এ বছর ১১ হাজার ৯ শত ৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আশা করছি লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করবে। তিনি আরও বলেন, আমরা প্রতিদিন কৃষকের কাছে গিয়ে ধান চাষে কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ফলনও বেশ ভালো হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
